সংবাদ

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ মে ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ল

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনমিস) মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তবে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সদস্য রাষ্ট্রের আপত্তি ও উদ্বেগ সত্ত্বেও এই মিশনের আকার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবের মাধ্যমে মিশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল।

২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই শান্তি রক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

  • সৈন্য সংখ্যা: সর্বোচ্চ ১৭ হাজার থেকে কমিয়ে ১২ হাজার ৫০০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
  • পুলিশ সদস্য: আগের মতোই প্রায় ২ হাজার ১০০ জন বহাল থাকছে।

তবে বর্তমানে সেখানে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের ওপর এই সীমার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। কারণ বাজেট স্বল্পতার কারণে মিশনটি আগে থেকেই তাদের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। গত মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ সুদানে বর্তমানে ৯ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যা এক বছর আগেও ছিল ১৪ হাজার।

শান্তিরক্ষী কমানোর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান। এছাড়া সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রও এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। চীনা রাষ্ট্রদূত সান লেই বলেন, "সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে আনায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।" রুশ উপ-রাষ্ট্রদূত আনা এভস্তিগনিভা মনে করেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশনের হাতে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা প্রথমে সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে ৭ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতার মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ নির্ধারণ করা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এর জন্য দক্ষিণ সুদান সরকারকে দায়ী করে বলেন, তারা শান্তির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে এবং মিশনে বাধা সৃষ্টি করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরকে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে মিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ সুদান। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত বাহিনী এবং গৃহবন্দি ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও নাজুক হয়ে পড়েছে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনমিস) মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তবে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সদস্য রাষ্ট্রের আপত্তি ও উদ্বেগ সত্ত্বেও এই মিশনের আকার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবের মাধ্যমে মিশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল।

২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই শান্তি রক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

  • সৈন্য সংখ্যা: সর্বোচ্চ ১৭ হাজার থেকে কমিয়ে ১২ হাজার ৫০০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
  • পুলিশ সদস্য: আগের মতোই প্রায় ২ হাজার ১০০ জন বহাল থাকছে।

তবে বর্তমানে সেখানে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের ওপর এই সীমার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। কারণ বাজেট স্বল্পতার কারণে মিশনটি আগে থেকেই তাদের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। গত মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ সুদানে বর্তমানে ৯ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যা এক বছর আগেও ছিল ১৪ হাজার।

শান্তিরক্ষী কমানোর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান। এছাড়া সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রও এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। চীনা রাষ্ট্রদূত সান লেই বলেন, "সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে আনায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।" রুশ উপ-রাষ্ট্রদূত আনা এভস্তিগনিভা মনে করেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশনের হাতে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা প্রথমে সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে ৭ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতার মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ নির্ধারণ করা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এর জন্য দক্ষিণ সুদান সরকারকে দায়ী করে বলেন, তারা শান্তির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে এবং মিশনে বাধা সৃষ্টি করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরকে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে মিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ সুদান। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত বাহিনী এবং গৃহবন্দি ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও নাজুক হয়ে পড়েছে।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত