সংবাদ

বৃষ্টির মরদেহও শনাক্ত, যেভাগে খুঁজে পেল পুলিশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

বৃষ্টির মরদেহও শনাক্ত, যেভাগে খুঁজে পেল পুলিশ
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর অবশেষে শনাক্ত হয়েছে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ। গত ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে ম্যানগ্রোভ এলাকা থেকে যে খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছিল, তা ডেন্টাল রেকর্ড ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার মামলার ভয়াবহ সব তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম টাম্পা বে ২৮।

শেরিফ ক্রোনিস্টার বলেন, ‘এই মরদেহ শনাক্তকরণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেও এই ঘটনা গভীর শোক নিয়ে এসেছে। নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন শুধু শিক্ষার্থীই ছিলেন না, তারা ছিলেন উদ্যমী ও সফল ব্যক্তি। যারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের যোগ্য ছিলে। সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।’

গত ১৬ এপ্রিল দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। দুজনেরই বয়স ২৭ বছর।হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, তারা লিমনের আবাস অ্যাভালন হাইটসের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তদন্ত শুরু করে। লিমনের দুই জন রুমমেট ছিলেন-একজন সহযোগিতা করেন, অন্যজন হিশাম আবুঘরবেহ সহযোগিতা করেননি।

শেরিফ ক্রোনিস্টার বলেন, ‘তার (আবুঘরবেহ) আচরণ বিরক্তিকর হওয়ায় এবং তিনি যেসব মন্তব্য করতেন তার কারণে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিল।’

গত ২৩ এপ্রিল তদন্তে বড় অগ্রগতি আসে। গোয়েন্দারা লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের কাছের একটি বড় ডাস্টবিনের ভেতর রক্তমাখা জিনিসপত্র খুঁজে পান। এরপর তারা ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ নিয়ে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘর ও আবুঘরবেহর শোবার ঘরের ভেতর রক্তের চিহ্ন খুঁজে পান।

শেরিফ বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিছানার পাশের মেঝেতে আমরা একটি মানুষের দেহের ছাপ দেখতে পাই, যেটি ভ্রূণের মতো গুটিয়ে থাকা অবস্থায় ছিল।’ আবুঘরবেহর গাড়ি তল্লাশি করে সেখানে বৃষ্টির রক্ত পাওয়া যায় বলেও জানান শেরিফ।

আবুঘরবেহর সাম্প্রতিক কেনাকাটার ইতিহাসে ছিল আবর্জনা ফেলার বড় কালো পলিথিন ব্যাগ, ওয়াইপস, দাহ্য তরল ও লাইটার। শেরিফ ক্রোনিস্টার বলেন, ‘তিনি এমন কিছু খোঁজ করেছিলেন। যেমন- একটি ছুরি কি মাথার খুলি ভেদ করতে পারে? প্রতিবেশী কি বন্দুকের শব্দ শুনতে পায়? একটি মরদেহ কি ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া যায়?’আবুঘরবেহর ফোনের লোকেশন হিস্ট্রি থেকেও তথ্য পায় গোয়েন্দারা, যা শেষ পর্যন্ত লিমনের মরদেহের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

লিমন, বৃষ্টি ও সন্দেহভাজন খুনি হিশাম

গেল ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর একটি কালো ব্যাগের ভেতর লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিশ্চিত হয় মরদেহটি লিমনের।

শেরিফ বলেন, ‘লিমনের পা নিতম্বের দিকে ভাঁজ করা ছিল।প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল, যাতে মরদেহ ভাঁজ করে একবারে আবর্জনার ব্যাগে ভরা সহজ হয়। একটি হত্যাকাণ্ড যতটা ভয়াবহ হতে পারে, এটা ঠিক তাই ছিল।’একই দিনে সন্দেহভাজনের পরিবার বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ৯১১ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে।

গেল ২৬ এপ্রিল কায়াক চালানোর সময় কয়েকজন ব্যক্তি ম্যানগ্রোভ এলাকায় কালো ব্যাগের ভেতর মানবদেহের খণ্ডিত অংশ খুঁজে পান। সেখানে মোড়ানো পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে শেষবার বৃষ্টির পরনে দেখা পোশাকের মিল ছিল। শেরিফ জানান, বৃষ্টির মরদেহের অবস্থার কারণে শনাক্ত করতে ডেন্টাল রেকর্ড ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩০ এপ্রিল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

শেরিফ বলেন, ‘তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে জানাতে হয়েছে, তাঁদের প্রিয়জন নিখোঁজ। পরে আবার কল করে জানাতে হয়েছে, তাদের খুঁজে পাওয়া গেছে, কিন্তু তারা মারা গেছেন। এরপর আরও বিস্তারিত জানাতে হয়েছে- কীভাবে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের বহুবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেরিফ ক্রোনিস্টার জানান, বৃষ্টি ও লিমন ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন। পুলিশের কাছে তাদের মধ্যে আদান-প্রদান করা বার্তা রয়েছে। ওই বার্তা থেকেই পুলিশ বিশ্বাস করছে, কোনো এক পর্যায়ে তারা একসঙ্গে ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখনো হত্যাকাণ্ডের ‘মোটিভ’ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। লিমন ও বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২৬ বছর বয়সী আবুঘরবেহ জামিন ছাড়াই কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


বৃষ্টির মরদেহও শনাক্ত, যেভাগে খুঁজে পেল পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর অবশেষে শনাক্ত হয়েছে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ। গত ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে ম্যানগ্রোভ এলাকা থেকে যে খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছিল, তা ডেন্টাল রেকর্ড ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার মামলার ভয়াবহ সব তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম টাম্পা বে ২৮।

শেরিফ ক্রোনিস্টার বলেন, ‘এই মরদেহ শনাক্তকরণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেও এই ঘটনা গভীর শোক নিয়ে এসেছে। নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন শুধু শিক্ষার্থীই ছিলেন না, তারা ছিলেন উদ্যমী ও সফল ব্যক্তি। যারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের যোগ্য ছিলে। সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।’

গত ১৬ এপ্রিল দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। দুজনেরই বয়স ২৭ বছর।হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, তারা লিমনের আবাস অ্যাভালন হাইটসের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তদন্ত শুরু করে। লিমনের দুই জন রুমমেট ছিলেন-একজন সহযোগিতা করেন, অন্যজন হিশাম আবুঘরবেহ সহযোগিতা করেননি।

শেরিফ ক্রোনিস্টার বলেন, ‘তার (আবুঘরবেহ) আচরণ বিরক্তিকর হওয়ায় এবং তিনি যেসব মন্তব্য করতেন তার কারণে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিল।’

গত ২৩ এপ্রিল তদন্তে বড় অগ্রগতি আসে। গোয়েন্দারা লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের কাছের একটি বড় ডাস্টবিনের ভেতর রক্তমাখা জিনিসপত্র খুঁজে পান। এরপর তারা ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ নিয়ে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘর ও আবুঘরবেহর শোবার ঘরের ভেতর রক্তের চিহ্ন খুঁজে পান।

শেরিফ বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিছানার পাশের মেঝেতে আমরা একটি মানুষের দেহের ছাপ দেখতে পাই, যেটি ভ্রূণের মতো গুটিয়ে থাকা অবস্থায় ছিল।’ আবুঘরবেহর গাড়ি তল্লাশি করে সেখানে বৃষ্টির রক্ত পাওয়া যায় বলেও জানান শেরিফ।

আবুঘরবেহর সাম্প্রতিক কেনাকাটার ইতিহাসে ছিল আবর্জনা ফেলার বড় কালো পলিথিন ব্যাগ, ওয়াইপস, দাহ্য তরল ও লাইটার। শেরিফ ক্রোনিস্টার বলেন, ‘তিনি এমন কিছু খোঁজ করেছিলেন। যেমন- একটি ছুরি কি মাথার খুলি ভেদ করতে পারে? প্রতিবেশী কি বন্দুকের শব্দ শুনতে পায়? একটি মরদেহ কি ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া যায়?’আবুঘরবেহর ফোনের লোকেশন হিস্ট্রি থেকেও তথ্য পায় গোয়েন্দারা, যা শেষ পর্যন্ত লিমনের মরদেহের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

লিমন, বৃষ্টি ও সন্দেহভাজন খুনি হিশাম

গেল ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর একটি কালো ব্যাগের ভেতর লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিশ্চিত হয় মরদেহটি লিমনের।

শেরিফ বলেন, ‘লিমনের পা নিতম্বের দিকে ভাঁজ করা ছিল।প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল, যাতে মরদেহ ভাঁজ করে একবারে আবর্জনার ব্যাগে ভরা সহজ হয়। একটি হত্যাকাণ্ড যতটা ভয়াবহ হতে পারে, এটা ঠিক তাই ছিল।’একই দিনে সন্দেহভাজনের পরিবার বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ৯১১ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে।

গেল ২৬ এপ্রিল কায়াক চালানোর সময় কয়েকজন ব্যক্তি ম্যানগ্রোভ এলাকায় কালো ব্যাগের ভেতর মানবদেহের খণ্ডিত অংশ খুঁজে পান। সেখানে মোড়ানো পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে শেষবার বৃষ্টির পরনে দেখা পোশাকের মিল ছিল। শেরিফ জানান, বৃষ্টির মরদেহের অবস্থার কারণে শনাক্ত করতে ডেন্টাল রেকর্ড ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩০ এপ্রিল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

শেরিফ বলেন, ‘তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে জানাতে হয়েছে, তাঁদের প্রিয়জন নিখোঁজ। পরে আবার কল করে জানাতে হয়েছে, তাদের খুঁজে পাওয়া গেছে, কিন্তু তারা মারা গেছেন। এরপর আরও বিস্তারিত জানাতে হয়েছে- কীভাবে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের বহুবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেরিফ ক্রোনিস্টার জানান, বৃষ্টি ও লিমন ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন। পুলিশের কাছে তাদের মধ্যে আদান-প্রদান করা বার্তা রয়েছে। ওই বার্তা থেকেই পুলিশ বিশ্বাস করছে, কোনো এক পর্যায়ে তারা একসঙ্গে ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখনো হত্যাকাণ্ডের ‘মোটিভ’ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। লিমন ও বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২৬ বছর বয়সী আবুঘরবেহ জামিন ছাড়াই কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত