আশা ছিল হাওর এলাকায় এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হবে। কৃষকরা সময়মতো ফসল কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছিলেন। কিন্তু গত এপ্রিলের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি ও উজানের ঢলে অনেক জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি হয় বোরো মৌসুমে। মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জোগান দেয় হাওরের সাত জেলা। এই বন্যায় কৃষকরা এখন উভয় সংকটে পড়েছেন। একদিকে ধান কাটা যাচ্ছে না, অন্যদিকে কাটা ধান শুকানোরও উপায় নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, হাওরে বন্যার কারণে কয়েক লাখ টন ধান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে চালের দামে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা এখনই নেই। উত্তরাঞ্চলের প্রধান উৎপাদন এলাকায় ফসল কাটা সবে শুরু হয়েছে। সেখানে ভালো ফলন হলে হাওরের ক্ষতি কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব হবে। সরকারের প্রায় ১৩ লাখ টন মজুতও বাজার অস্থিরতা ঠেকাতে কাজে আসবে। তবে হাওর জেলাগুলোতে স্থানীয়ভাবে চাহিদার চাপ বাড়তে পারে, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিজেদের খাদ্যের জন্যও বাজারের ওপর নির্ভর করতে হবে।
সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চাল সংগ্রহের তারিখ আগামী ১৫ মে থেকে এগিয়ে আজকে করা হয়েছে। কৃষকদের চালকল ও সরকারি গুদামে ধান শুকানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এগুলো সময়োচিত সিদ্ধান্ত।
সিদ্ধান্ত কাগজে থাকলে চলবে না, মাঠে কার্যকর হতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি ক্রয় কর্মসূচিতে প্রকৃত কৃষক প্রায়ই বঞ্চিত হন। মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির কারণে সুবিধা সঠিক জায়গায় পৌঁছায় না। এবার যেন সেই পুরনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ক্রয় নিশ্চিত করা এবং প্রক্রিয়াটি দুর্নীতিমুক্ত রাখাও জরুরি।
হাওরাঞ্চলের কৃষিকে বারবার একই ঝুঁকির মুখে পড়তে দেয়া যায় না। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, আগাম সতর্কতা এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। নইলে আগামিতে একই সমস্যা বার বার ফিরে আসবে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
আশা ছিল হাওর এলাকায় এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হবে। কৃষকরা সময়মতো ফসল কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছিলেন। কিন্তু গত এপ্রিলের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি ও উজানের ঢলে অনেক জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি হয় বোরো মৌসুমে। মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জোগান দেয় হাওরের সাত জেলা। এই বন্যায় কৃষকরা এখন উভয় সংকটে পড়েছেন। একদিকে ধান কাটা যাচ্ছে না, অন্যদিকে কাটা ধান শুকানোরও উপায় নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, হাওরে বন্যার কারণে কয়েক লাখ টন ধান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে চালের দামে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা এখনই নেই। উত্তরাঞ্চলের প্রধান উৎপাদন এলাকায় ফসল কাটা সবে শুরু হয়েছে। সেখানে ভালো ফলন হলে হাওরের ক্ষতি কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব হবে। সরকারের প্রায় ১৩ লাখ টন মজুতও বাজার অস্থিরতা ঠেকাতে কাজে আসবে। তবে হাওর জেলাগুলোতে স্থানীয়ভাবে চাহিদার চাপ বাড়তে পারে, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিজেদের খাদ্যের জন্যও বাজারের ওপর নির্ভর করতে হবে।
সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চাল সংগ্রহের তারিখ আগামী ১৫ মে থেকে এগিয়ে আজকে করা হয়েছে। কৃষকদের চালকল ও সরকারি গুদামে ধান শুকানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এগুলো সময়োচিত সিদ্ধান্ত।
সিদ্ধান্ত কাগজে থাকলে চলবে না, মাঠে কার্যকর হতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি ক্রয় কর্মসূচিতে প্রকৃত কৃষক প্রায়ই বঞ্চিত হন। মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির কারণে সুবিধা সঠিক জায়গায় পৌঁছায় না। এবার যেন সেই পুরনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ক্রয় নিশ্চিত করা এবং প্রক্রিয়াটি দুর্নীতিমুক্ত রাখাও জরুরি।
হাওরাঞ্চলের কৃষিকে বারবার একই ঝুঁকির মুখে পড়তে দেয়া যায় না। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, আগাম সতর্কতা এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। নইলে আগামিতে একই সমস্যা বার বার ফিরে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন