সংবাদ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লক্ষ্যমাত্রার ৮১% শিশু হামের টিকার আওতায়, ‘মজুদে ঘাটতি নেই’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

লক্ষ্যমাত্রার ৮১% শিশু হামের টিকার আওতায়, ‘মজুদে ঘাটতি নেই’

  • অবৈধ ক্লিনিক, ভেজাল ওষুধ: নজরদারি বাড়াতে ডিসিদের নির্দেশ

দেশে হামের টিকার মজুদে কোন ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এক্ষেত্রে কোনো ‘ঘাটতি’ বা ‘দুর্বলতা’ নেই।

র‌বিবার (৩ মে) বিকেলে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু বাড়ছে। হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে র‌বিবার আরো ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের, বাকি নয়জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫০ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে ২৪৪ জনের মৃত্যু হলো।

টিকার ‘যথেষ্ট মজুদ’ থাকার দাবি করে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকা দেওয়া চলছে। টিকা না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং মৃত্যুর হারও কমে আসছে। তবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে।

শিগগির সবাইকে টিকার আওতায় আনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এখনও চলছে অভিযান। আর দুই-চার দিনের ভেতরে ১০০ শতাংশ লক্ষ্য কভার করে ফেলব হামের টিকার ব্যাপারে। আমাদের কোনো রকম স্টক ঘাটতি নেই, কোনো রকম দুর্বলতা নেই এই ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় চার দিনের ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ।

ডেঙ্গু আসছে

সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কী নির্দেশনা দেওয়া হল এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ওনাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। যেমন: ডেঙ্গু আসছে এই যে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়ার জন্য বলেছি। কাউন্সেলিং করার জন্য, মায়েদেরকে ব্রেস্ট ফিডিং যাতে বৃদ্ধি করে, বাচ্চাদের যেন ব্রেস্ট ফিডিং করানো, যাতে শাক খাওয়ার অভ্যাস করেন।”

মন্ত্রী বলেন, “অ্যান্টর‌ র‌্যাবিসের যেহেতু এখনও দরপত্রের বিপরীতে মালটা পাইনি, কোনোক্রমে একটা অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টি স্নেক ভেনম যেটা, এটার যাতে ঘাটতি না হয়। সবসময় স্টকটার প্রতি খেয়াল রাখা এবং যারা যেভাবে অতীতে করে আসতেছে এটাকে আরও সুন্দরভাবে দৃষ্টি রাখা যাতে একটাও জলাতঙ্কের রোগী যেন ফেরত না যায়।”

অবৈধ ক্লিনিক, ভেজাল ওষুধ

দেশব্যাপী গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্লিনিকগুলো যেগুলো অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে, যেগুলো অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কমপ্লায়েন্স করতেছে না, সেগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে পরিদর্শন করা। ডিসপেনসারিগুলোতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে কিনা, এইগুলো খেয়াল রাখা। মানে সার্বিক দিক থেকে স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করার লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ইচ্ছা, সরকারের যে প্রতিশ্রুতি, জনগণের দুয়ারের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, এটার লক্ষে যত রকম কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়, সম্মানিত জেলা প্রশাসকদের কাছে সেই সহযোগিতা কামনা করেছি।”

এ সময় হামের টিকার বিষয়েও ডিসিদের প্রতি নির্দেশনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রায় ৮১ শতাংশ কভার করে নিয়েছি ইনশাআল্লাহ। ভ্যাকসিন দেওয়া, সেটারও প্রত্যেকটা ক্যাম্পের প্রতি যেন ওনারা দৃষ্টি রাখেন, এই ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


লক্ষ্যমাত্রার ৮১% শিশু হামের টিকার আওতায়, ‘মজুদে ঘাটতি নেই’

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

  • অবৈধ ক্লিনিক, ভেজাল ওষুধ: নজরদারি বাড়াতে ডিসিদের নির্দেশ

দেশে হামের টিকার মজুদে কোন ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এক্ষেত্রে কোনো ‘ঘাটতি’ বা ‘দুর্বলতা’ নেই।

র‌বিবার (৩ মে) বিকেলে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু বাড়ছে। হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে র‌বিবার আরো ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের, বাকি নয়জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫০ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে ২৪৪ জনের মৃত্যু হলো।

টিকার ‘যথেষ্ট মজুদ’ থাকার দাবি করে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকা দেওয়া চলছে। টিকা না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং মৃত্যুর হারও কমে আসছে। তবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে।

শিগগির সবাইকে টিকার আওতায় আনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এখনও চলছে অভিযান। আর দুই-চার দিনের ভেতরে ১০০ শতাংশ লক্ষ্য কভার করে ফেলব হামের টিকার ব্যাপারে। আমাদের কোনো রকম স্টক ঘাটতি নেই, কোনো রকম দুর্বলতা নেই এই ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় চার দিনের ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ।

ডেঙ্গু আসছে

সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কী নির্দেশনা দেওয়া হল এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ওনাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। যেমন: ডেঙ্গু আসছে এই যে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়ার জন্য বলেছি। কাউন্সেলিং করার জন্য, মায়েদেরকে ব্রেস্ট ফিডিং যাতে বৃদ্ধি করে, বাচ্চাদের যেন ব্রেস্ট ফিডিং করানো, যাতে শাক খাওয়ার অভ্যাস করেন।”

মন্ত্রী বলেন, “অ্যান্টর‌ র‌্যাবিসের যেহেতু এখনও দরপত্রের বিপরীতে মালটা পাইনি, কোনোক্রমে একটা অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টি স্নেক ভেনম যেটা, এটার যাতে ঘাটতি না হয়। সবসময় স্টকটার প্রতি খেয়াল রাখা এবং যারা যেভাবে অতীতে করে আসতেছে এটাকে আরও সুন্দরভাবে দৃষ্টি রাখা যাতে একটাও জলাতঙ্কের রোগী যেন ফেরত না যায়।”

অবৈধ ক্লিনিক, ভেজাল ওষুধ

দেশব্যাপী গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্লিনিকগুলো যেগুলো অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে, যেগুলো অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কমপ্লায়েন্স করতেছে না, সেগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে পরিদর্শন করা। ডিসপেনসারিগুলোতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে কিনা, এইগুলো খেয়াল রাখা। মানে সার্বিক দিক থেকে স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করার লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ইচ্ছা, সরকারের যে প্রতিশ্রুতি, জনগণের দুয়ারের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, এটার লক্ষে যত রকম কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়, সম্মানিত জেলা প্রশাসকদের কাছে সেই সহযোগিতা কামনা করেছি।”

এ সময় হামের টিকার বিষয়েও ডিসিদের প্রতি নির্দেশনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রায় ৮১ শতাংশ কভার করে নিয়েছি ইনশাআল্লাহ। ভ্যাকসিন দেওয়া, সেটারও প্রত্যেকটা ক্যাম্পের প্রতি যেন ওনারা দৃষ্টি রাখেন, এই ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত