সংবাদ

সৌরবিদ্যুৎ সময়োপযোগী, তবে সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

সৌরবিদ্যুৎ সময়োপযোগী, তবে সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ

  • ‘প্রবাসী বন্ড’ চালুর প্রস্তাব
  • সৌর সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে পূর্ণ শুল্ক ছাড়ের সুপরিশ
  • স্রেডা-কে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ খাতে সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ, স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং কর-শুল্ক ছাড় নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে এসেছে।

তারা বক্তব্যে বলেছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা- বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালা‌নির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতায় দেশে জ্বালা‌নি তেলের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম এবং চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা ছিল যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ ও ৬২.৫ শতাংশ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং লোডশেডিং ২৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানিতে প্রতি ঘনমিটারে ৬৫ টাকার বেশি এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ৭০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন কাঠামো নতুন করে ভাবার আহবান জানিয়েছেন জাকির হোসেন। তার ভাষায় আগামী বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকির অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাতে স্থানান্তর করা গেলে প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সীমিত আকারে কার্বন মূল্য নির্ধারণ চালু করলে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বক্তারা প্রবাসী বিনিয়োগ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ‘প্রবাসী বন্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা গ্রিন ফাইন্যান্সিং উইন্ডো না থাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩-৪ শতাংশ সুদে রিফাইন্যান্সিং এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) যুক্ত অর্থায়ন কাঠামো চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।

নীতিগত সুপারিশ হিসেবে সৌর সরঞ্জাম, ব্যাটারি স্টোরেজ ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর পূর্ণ শুল্ক ছাড় এবং ৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ রিভলভিং ফান্ড গঠনের দাবি জানান বক্তারা।

তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে। ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা বছরে ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। রুফটপ সোলার, সোলার সেচ এবং পরিবহন খাতে বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। তিনি বলেন, “১০ হাজার মেগাওয়াট অর্জন প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবায়নে স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে।” অতীতে ঘোষিত ৩ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যে অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি সৌর উপকরণের ওপর ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের সমালোচনা করে তা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান এবং সোলার বন্ড চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি বর্তমান পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের জটিলতা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাতে পারে বলেও মত দেন বক্তারা। এর পরিবর্তে প্রকল্পগুলো সরাসরি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে আলোচনায়। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-কে আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানান বক্তারা।

ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, “আমার বিদ্যুৎ আমি উৎপাদন করব- এখন এই মডেল বাস্তবায়নের সময় এসেছে।” তিনি বলেন, সরকারকে শুধু সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, বিশেষ করে সৌর সরঞ্জামের দাম কমানো ও কর হ্রাসের মাধ্যমে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধান না করলে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান এবং দ্রুত নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা দ্রুত একটি সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


সৌরবিদ্যুৎ সময়োপযোগী, তবে সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

  • ‘প্রবাসী বন্ড’ চালুর প্রস্তাব
  • সৌর সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে পূর্ণ শুল্ক ছাড়ের সুপরিশ
  • স্রেডা-কে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ খাতে সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ, স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং কর-শুল্ক ছাড় নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে এসেছে।

তারা বক্তব্যে বলেছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা- বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালা‌নির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতায় দেশে জ্বালা‌নি তেলের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম এবং চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা ছিল যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ ও ৬২.৫ শতাংশ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং লোডশেডিং ২৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানিতে প্রতি ঘনমিটারে ৬৫ টাকার বেশি এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ৭০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন কাঠামো নতুন করে ভাবার আহবান জানিয়েছেন জাকির হোসেন। তার ভাষায় আগামী বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকির অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাতে স্থানান্তর করা গেলে প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সীমিত আকারে কার্বন মূল্য নির্ধারণ চালু করলে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বক্তারা প্রবাসী বিনিয়োগ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ‘প্রবাসী বন্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা গ্রিন ফাইন্যান্সিং উইন্ডো না থাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩-৪ শতাংশ সুদে রিফাইন্যান্সিং এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) যুক্ত অর্থায়ন কাঠামো চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।

নীতিগত সুপারিশ হিসেবে সৌর সরঞ্জাম, ব্যাটারি স্টোরেজ ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর পূর্ণ শুল্ক ছাড় এবং ৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ রিভলভিং ফান্ড গঠনের দাবি জানান বক্তারা।

তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে। ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা বছরে ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। রুফটপ সোলার, সোলার সেচ এবং পরিবহন খাতে বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। তিনি বলেন, “১০ হাজার মেগাওয়াট অর্জন প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবায়নে স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে।” অতীতে ঘোষিত ৩ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যে অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি সৌর উপকরণের ওপর ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের সমালোচনা করে তা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান এবং সোলার বন্ড চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি বর্তমান পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের জটিলতা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাতে পারে বলেও মত দেন বক্তারা। এর পরিবর্তে প্রকল্পগুলো সরাসরি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে আলোচনায়। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-কে আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানান বক্তারা।

ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, “আমার বিদ্যুৎ আমি উৎপাদন করব- এখন এই মডেল বাস্তবায়নের সময় এসেছে।” তিনি বলেন, সরকারকে শুধু সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, বিশেষ করে সৌর সরঞ্জামের দাম কমানো ও কর হ্রাসের মাধ্যমে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধান না করলে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান এবং দ্রুত নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা দ্রুত একটি সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত