পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহেই কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না এবং রাজভবনেও যাবেন না। তার কথায়, “আমি হারিনি।”
এদিন, মুখ্যমন্ত্রী ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ‘নোংরা খেলা’ হয়েছে এবং ভারতের নির্বাচন ও বিজেপি ‘একসঙ্গে অনিয়ম’ করেছে।
পাশাপাশি তিনি জানান, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথেই হাঁটবে তার দল। তিনি সাফ বলে দেন, “আগে যেমন রাস্তায় ছিলাম, তেমনই আবার রাস্তায় নামবো।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, “কেন পদত্যাগ করবো? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?”
নির্বাচনে হেরে গেলে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত রাজ্যপালের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। এটা কোনো সাংবিধানিক নিয়ম নয় রীতি বা রেওয়াজ। আগের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা তেমনই করে এসেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭মে, বৃহস্পতিবার। ইস্তফা না দিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দিন পর্যন্তই মমতা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু ৭ তারিখ পেরোলেই তার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থাকবে না।
অভিযোগের তীর নির্বাচন কমিশনের দিকে
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ‘সহায়তায়’ ১০০-র বেশি আসন ‘লুট করা হয়েছে’। মমতা বলেন, ‘“ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। ভোটে হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা তো হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা ভোট লুট করেছে।”
মমতা বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন। তারা মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেইড করেছে। সব অফিসারকে বদলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী (মোদি), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও (অমিত শাহ) এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।”
রাস্তায় নামবেন
হারের পর দলের রণকৌশল কী হবে, কোন পথে এগোবেন, তা আপাতত গোপনই রাখতে চান মমতা। জানিয়েছেন, এখনই এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু বলবেন না।
মমতা বলেন, “এতোদিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।”
বিজেপি বিরোধী জোট
বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সব নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, “জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। (বিহারের) অখিলেশ (যাদব) আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করবো।”
সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরভিন্দ কেজরীওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন, তেজাস্বী যাদব ফোন পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন এবং পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহেই কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না এবং রাজভবনেও যাবেন না। তার কথায়, “আমি হারিনি।”
এদিন, মুখ্যমন্ত্রী ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ‘নোংরা খেলা’ হয়েছে এবং ভারতের নির্বাচন ও বিজেপি ‘একসঙ্গে অনিয়ম’ করেছে।
পাশাপাশি তিনি জানান, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথেই হাঁটবে তার দল। তিনি সাফ বলে দেন, “আগে যেমন রাস্তায় ছিলাম, তেমনই আবার রাস্তায় নামবো।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, “কেন পদত্যাগ করবো? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?”
নির্বাচনে হেরে গেলে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত রাজ্যপালের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। এটা কোনো সাংবিধানিক নিয়ম নয় রীতি বা রেওয়াজ। আগের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা তেমনই করে এসেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭মে, বৃহস্পতিবার। ইস্তফা না দিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দিন পর্যন্তই মমতা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু ৭ তারিখ পেরোলেই তার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থাকবে না।
অভিযোগের তীর নির্বাচন কমিশনের দিকে
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ‘সহায়তায়’ ১০০-র বেশি আসন ‘লুট করা হয়েছে’। মমতা বলেন, ‘“ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। ভোটে হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা তো হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা ভোট লুট করেছে।”
মমতা বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন। তারা মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেইড করেছে। সব অফিসারকে বদলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী (মোদি), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও (অমিত শাহ) এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।”
রাস্তায় নামবেন
হারের পর দলের রণকৌশল কী হবে, কোন পথে এগোবেন, তা আপাতত গোপনই রাখতে চান মমতা। জানিয়েছেন, এখনই এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু বলবেন না।
মমতা বলেন, “এতোদিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।”
বিজেপি বিরোধী জোট
বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সব নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, “জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। (বিহারের) অখিলেশ (যাদব) আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করবো।”
সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরভিন্দ কেজরীওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন, তেজাস্বী যাদব ফোন পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন এবং পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা।

আপনার মতামত লিখুন