সংবাদ

বালুর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন, তবু যমুনায় থামছে না অবৈধ ড্রেজার


প্রতিনিধি, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)
প্রতিনিধি, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ৯ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

বালুর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন, তবু যমুনায় থামছে না অবৈধ ড্রেজার
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক টাওয়ারের পাশেই ড্রেজার বসিয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ তীরবর্তী এলাকাগুলোয় ‘বালুখেকো’ চক্রের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৮টি শক্তিশালী কাটার ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

বালুর টাকার ভাগাভাগি নিয়ে গত ৩ এপ্রিল মিরাজ নামে এক ম্যানেজার খুন হলেও থামেনি বালু লুট। এর ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। এমনকি হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক টাওয়ার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে নির্বিচারে বালু বিক্রি করছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের জেরে এরই মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে। মিরাজ হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বালুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলোকদিয়া চরের কাছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) বৈদ্যুতিক টাওয়ারের গা ঘেঁষেই বসানো হয়েছে ড্রেজার। বালু তুলে তা বাল্কহেডে ভরে বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছে। তীব্র ভাঙনে এরই মধ্যে একটি মসজিদ, কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুজিব কেল্লা, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেশ কিছু বাজার।

ভাঙনের শিকার ছলিম উদ্দিন বলেন, ‘অসময়ে নদী ভাঙার কথা না। কিন্তু ড্রেজারে বালু তোলায় পাড় ধসে পড়ছে। আমরা ঘরবাড়ি নিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’

ভুক্তভোগী মো. মুক্তার হোসেন ও রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করতে গেলে বালুখেকো চক্রের লোকজন মামলা ও হামলার হুমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে পিজিসিবির একজন প্রকৌশলী দাবি করেছেন, ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের মাঝখান থেকে বালু তোলা হলেও টাওয়ারগুলো আপাতত ঝুঁকির মুখে নেই। যদিও স্থানীয়রা এই দাবিতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের আশঙ্কা, টাওয়ারের গোড়া থেকে মাটি সরে গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সারা দেশে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসী নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এ ছাড়া আরিচা ঘাটে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে দেওয়া হবে না। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


বালুর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন, তবু যমুনায় থামছে না অবৈধ ড্রেজার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ তীরবর্তী এলাকাগুলোয় ‘বালুখেকো’ চক্রের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৮টি শক্তিশালী কাটার ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

বালুর টাকার ভাগাভাগি নিয়ে গত ৩ এপ্রিল মিরাজ নামে এক ম্যানেজার খুন হলেও থামেনি বালু লুট। এর ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। এমনকি হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক টাওয়ার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে নির্বিচারে বালু বিক্রি করছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের জেরে এরই মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে। মিরাজ হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বালুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলোকদিয়া চরের কাছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) বৈদ্যুতিক টাওয়ারের গা ঘেঁষেই বসানো হয়েছে ড্রেজার। বালু তুলে তা বাল্কহেডে ভরে বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছে। তীব্র ভাঙনে এরই মধ্যে একটি মসজিদ, কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুজিব কেল্লা, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেশ কিছু বাজার।

ভাঙনের শিকার ছলিম উদ্দিন বলেন, ‘অসময়ে নদী ভাঙার কথা না। কিন্তু ড্রেজারে বালু তোলায় পাড় ধসে পড়ছে। আমরা ঘরবাড়ি নিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’

ভুক্তভোগী মো. মুক্তার হোসেন ও রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করতে গেলে বালুখেকো চক্রের লোকজন মামলা ও হামলার হুমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে পিজিসিবির একজন প্রকৌশলী দাবি করেছেন, ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের মাঝখান থেকে বালু তোলা হলেও টাওয়ারগুলো আপাতত ঝুঁকির মুখে নেই। যদিও স্থানীয়রা এই দাবিতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের আশঙ্কা, টাওয়ারের গোড়া থেকে মাটি সরে গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সারা দেশে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসী নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এ ছাড়া আরিচা ঘাটে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে দেওয়া হবে না। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত