রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নাফিস মন্ডল (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) বিকেলে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আটক নাফিস মন্ডল উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকির পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত রায়হান শেখ (১৮) পলাতক রয়েছে। রায়হান উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার জানায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে রায়হানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গতকাল শনিবার (৯ মে) রাত ১০টার দিকে রায়হান ওই ছাত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে বাইরে আসতে বলে। মেয়েটি প্রথমে রাজি না হলেও রায়হানের জোরাজুরিতে ঘর থেকে বের হয়। এরপর রায়হান তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে গোয়ালন্দ পৌর শহরের নগর রায়েরপাড়া এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে রায়হান এবং পরে তার বন্ধু নাফিস মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার মুখ চেপে ধরে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টার দিকে অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে তার বাড়ির কাছে পৌঁছে দিতে যায়। এ সময় তাদের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। গ্রামবাসী জড়ো হতে থাকলে নাফিস পালানোর চেষ্টা করেন, তবে ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে ফেলে জনতা। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যায় রায়হান। রাত বেশি হওয়ায় স্থানীয়রা নাফিসকে এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রাখেন। আজ সকালে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে নাফিস নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। কিশোরীর মা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভুক্তভোগীকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার মূল হোতা রায়হান শেখকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন