গাইবান্ধা সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনে (দলিল) অতিরিক্ত টাকা আদায় ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে রোববার (১০ মে) থেকে অনির্দিষ্টকালের ‘কলম বিরতি’ (কর্মবিরতি) ঘোষণা করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে একদল লোক জড়ো হয়ে দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোল বেধে যায় এবং অফিসের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দলিল লেখক সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তা মল্লিক) অভিযোগ করেন, পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে আজ পরিকল্পিতভাবে এই হট্টগোল সৃষ্টি করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘অফিসের ফটক বন্ধ করার প্রতিবাদ করায় আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কলম বিরতি পালনের ঘোষণা দিচ্ছি।’
এদিকে বিক্ষোভকারীরা বিকেলে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের পক্ষে আব্দুস সালাম বলেন, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি দলিলের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
আব্দুস সালাম আরও অভিযোগ করেন, দলিল লেখক সমিতির অসাধু চক্র সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগসাজশ করে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পেতে আগামী মঙ্গলবার ‘সচেতন গাইবান্ধাবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
অফিস চলাকালে এ হট্টগোল ও উত্তেজনার কারণে জেলা শহরের ব্যস্ততম ডিবি রোড ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় তীব্র যানজট ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সাধারণ গ্রাহকেরা কোনো কাজ করতে না পেরে ফিরে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আপনার মতামত লিখুন