আসামের রাজনীতিতে চমক নয়, বরং প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন- হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন। রোববার (১০ মে) বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাকেই সর্বসম্মতভাবে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পরেই তিনি লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। আর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর হিমন্তের গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন তার আগামী দিনের রোডম্যাপ-“আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” অর্থাৎ, উন্নয়নকেই সামনে রেখেই আবার পথচলা শুরু করতে চাইছে তার সরকার।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সেই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি আরও মজবুত করেছে। ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৬টি আসন। সেখানে বিজেপি একাই জিতে নিয়েছে ৮২টি আসন- যা তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। জোট হিসেবে এনডিএ পেয়েছে মোট ১০২টি আসন।
বিজেপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল অসম গণ পরিষদ (অগপ), বড়োল্যান্ড পিপল্স ফ্রন্ট (বিপিএফ) এবং রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চ। অগপ ও বিপিএফ উভয়েই ১০টি করে আসন জিতে জোটের শক্তি আরও বাড়িয়েছে।
আসামে বিজেপির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন প্রথমবারের জন্য এনডিএ ক্ষমতায় আসে এবং মুখ্যমন্ত্রী হন সর্বানন্দ সনওয়াল। ২০২১ সালেও তার নেতৃত্বেই জয় পায় জোট। তবে পরে নেতৃত্বের রদবদল করে দায়িত্ব দেওয়া হয় হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে। সেই সিদ্ধান্ত যে রাজনৈতিকভাবে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ হয়ে গেল ২০২৬-এর ফলাফলে।
ফলে এ বার আর কোনও পরীক্ষানিরীক্ষা নয়- পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই ভরসা রাখল বিজেপি। হিমন্তের হাত ধরেই আসামের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও মজবুত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এখন দেখার বিষয়, তার নতুন ইনিংসে উন্নয়ন আর রাজনৈতিক ভারসাম্যের এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ পায়।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
আসামের রাজনীতিতে চমক নয়, বরং প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন- হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন। রোববার (১০ মে) বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাকেই সর্বসম্মতভাবে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পরেই তিনি লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। আর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর হিমন্তের গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন তার আগামী দিনের রোডম্যাপ-“আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” অর্থাৎ, উন্নয়নকেই সামনে রেখেই আবার পথচলা শুরু করতে চাইছে তার সরকার।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সেই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি আরও মজবুত করেছে। ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৬টি আসন। সেখানে বিজেপি একাই জিতে নিয়েছে ৮২টি আসন- যা তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। জোট হিসেবে এনডিএ পেয়েছে মোট ১০২টি আসন।
বিজেপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল অসম গণ পরিষদ (অগপ), বড়োল্যান্ড পিপল্স ফ্রন্ট (বিপিএফ) এবং রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চ। অগপ ও বিপিএফ উভয়েই ১০টি করে আসন জিতে জোটের শক্তি আরও বাড়িয়েছে।
আসামে বিজেপির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন প্রথমবারের জন্য এনডিএ ক্ষমতায় আসে এবং মুখ্যমন্ত্রী হন সর্বানন্দ সনওয়াল। ২০২১ সালেও তার নেতৃত্বেই জয় পায় জোট। তবে পরে নেতৃত্বের রদবদল করে দায়িত্ব দেওয়া হয় হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে। সেই সিদ্ধান্ত যে রাজনৈতিকভাবে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ হয়ে গেল ২০২৬-এর ফলাফলে।
ফলে এ বার আর কোনও পরীক্ষানিরীক্ষা নয়- পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই ভরসা রাখল বিজেপি। হিমন্তের হাত ধরেই আসামের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও মজবুত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এখন দেখার বিষয়, তার নতুন ইনিংসে উন্নয়ন আর রাজনৈতিক ভারসাম্যের এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ পায়।

আপনার মতামত লিখুন