সংবাদ

সংস্কারহীন ৯ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদ


প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

সংস্কারহীন ৯ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদ
খানাখন্দে ভরা ঘিওর-বানিয়াজুরী আঞ্চলিক সড়ক। ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘিওর-বানিয়াজুরী আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ খানাখন্দ। দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির ঘিওর থেকে বানিয়াজুরী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বালিয়াখোড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সড়কের এক পাশ ধসে নিচু হয়ে যাওয়ায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই পথে নিয়মিত চলাচলকারী অটোটেম্পু, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঘিওর, দৌলতপুর, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পিচ উঠে গিয়ে কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

অটোরিকশাচালক জুলহাস বলেন, “এই সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে বালিয়াখোড়ার পর গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রায়ই গর্তে চাকা ঢুকে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। সারা দিনে যা আয় করি, তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয় গাড়ি মেরামত করতে।”

বৈলট গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, তার বাবা অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে বালিয়াখোড়া বাজারের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন। অটোরিকশা উল্টে তার পা ভেঙে যায়। এতে তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। 

স্থানীয় শিক্ষক নূরে আলম বলেন, সড়কটির কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি এখন নিত্যসঙ্গী।

এদিকে, ঘিওর মডেল মসজিদ থেকে থানা মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও নাজুক। ঘিওর সিনেমা হল মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ঘিওর ডি এন হাই স্কুল, ঘিওর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঘিওর সরকারি কলেজ ও আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বাজারের ব্যবসায়ীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। ২০২১ সালে নির্মিত ড্রেনটি পরিষ্কার না করায় ভরাট হয়ে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল বলেন, “সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ছয় মাসে এই ৯ কিলোমিটার অংশে অন্তত অর্ধশত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।”

ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, “সড়কটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে ‘আমফান প্রকল্পের’ আওতায় এটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।”

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


সংস্কারহীন ৯ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদ

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘিওর-বানিয়াজুরী আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ খানাখন্দ। দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির ঘিওর থেকে বানিয়াজুরী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বালিয়াখোড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সড়কের এক পাশ ধসে নিচু হয়ে যাওয়ায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই পথে নিয়মিত চলাচলকারী অটোটেম্পু, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঘিওর, দৌলতপুর, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পিচ উঠে গিয়ে কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

অটোরিকশাচালক জুলহাস বলেন, “এই সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে বালিয়াখোড়ার পর গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রায়ই গর্তে চাকা ঢুকে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। সারা দিনে যা আয় করি, তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয় গাড়ি মেরামত করতে।”

বৈলট গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, তার বাবা অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে বালিয়াখোড়া বাজারের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন। অটোরিকশা উল্টে তার পা ভেঙে যায়। এতে তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। 

স্থানীয় শিক্ষক নূরে আলম বলেন, সড়কটির কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি এখন নিত্যসঙ্গী।

এদিকে, ঘিওর মডেল মসজিদ থেকে থানা মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও নাজুক। ঘিওর সিনেমা হল মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ঘিওর ডি এন হাই স্কুল, ঘিওর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঘিওর সরকারি কলেজ ও আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বাজারের ব্যবসায়ীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। ২০২১ সালে নির্মিত ড্রেনটি পরিষ্কার না করায় ভরাট হয়ে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল বলেন, “সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ছয় মাসে এই ৯ কিলোমিটার অংশে অন্তত অর্ধশত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।”

ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, “সড়কটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে ‘আমফান প্রকল্পের’ আওতায় এটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।”

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত