মানিকগঞ্জের ৭ টি উপজেলার জনপদে এখন গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ। সেই উত্তাপের মধ্যেই রক্তিম আভা ছড়িয়ে প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছগুলোতে যেন আগুনের শিখা জ্বলছে। গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি রাস্তার ধারে ডালপালা মেলে সগৌরবে টিকে আছে এই শোভা বর্ধনকারী বৃক্ষ।
মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া ও সিংগাইর এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ও রাস্তার মোড়ে এখন কৃষ্ণচূড়ার জয়জয়কার। ঘিওর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সৌরভ বলেন, “কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। রাস্তার পাশে এই ফুল দেখলে পথচারীদের মন ভরে যায়। তবে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছ আরও বেশি করে রোপণ করা প্রয়োজন।”
মানিকগঞ্জ বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। ভিনদেশি এই বৃক্ষ এখন আমাদের দেশের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে এর রূপ দেখে পথচারীরাও থমকে দাঁড়ান।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত কৃষ্ণচূড়া ফোটে। মুকুল ধরার কিছুদিনের মধ্যেই গাছগুলো সাত-আটটি পাপড়িযুক্ত গাঢ় লাল ফুলে ভরে যায়। ফুলের ভেতরের অংশ কিছুটা হালকা হলুদ ও রক্তিম আভার হয়। পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় কৃষ্ণচূড়া চাষের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, “গ্রীষ্মের এই মুগ্ধতা তরুণদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। অনেকেই এই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। কৃষ্ণচূড়া মানুষের হৃদয়ে এক অনাবিল প্রশান্তি এনে দেয়।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, মানিকগঞ্জের গ্রাম ও শহরের রাস্তার ধারে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হচ্ছে। এপ্রিল ও মে মাসে এই ফুলের আকর্ষণীয় রূপ সবার দৃষ্টি কাড়ে। বছরের অন্য সময় গাছগুলো সাধারণ মনে হলেও এই মৌসুমে তা অনন্য সৌন্দর্যে আবির্ভূত হয়।
আপনার মতামত লিখুন