সংবাদ

অনুপ্রবেশ রুখতে অসম মডেলের পথে বাংলা?


দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

অনুপ্রবেশ রুখতে অসম মডেলের পথে বাংলা?
শুভেন্দু অধিকারী

অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছে বাংলার নতুন বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচার থেকেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন- অনুপ্রবেশ কোনওভাবেই বরদাশত করা হবে না। সেই অবস্থানেই অনড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার পর একই সুর শোনা গেল শুভেন্দু অধিকারীর গলায়।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে, অসমের মাটি থেকেই শুভেন্দু স্পষ্ট বার্তা দেন- বাংলাও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তিনি দাবি করেন, অসম যেভাবে পরিকল্পিতভাবে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করেছে, বাংলাতেও সেই মডেল প্রয়োগ করা সম্ভব।  তার কথায়, দেশের স্বার্থে এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আমলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে, যার ফলে জনসংখ্যার ভারসাম্য থেকে শুরু করে নিরাপত্তা- সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। এই ইস্যুকেই সামনে রেখে ভোটের ময়দানে বিজেপি আক্রমণ শাণিয়েছিল। 

শুভেন্দুর বক্তব্যে সেই অভিযোগেরই পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, যেখানে তিনি তুষ্টিকরণের রাজনীতিকে সরাসরি দায়ী করেন এবং দাবি করেন, অতীতে সীমান্ত রক্ষায় যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

একইসঙ্গে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কৌশলের প্রশংসা করে তাকে নিজের “বড় ভাই” বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, হিমন্তর কাজের ধরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কঠোরতা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যা বাংলাতেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হবে।

তবে এই সমস্ত মন্তব্যের মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে-বাংলা কি সত্যিই অসমের পথ অনুসরণ করে এনআরসি বা আরও কঠোর অনুপ্রবেশ বিরোধী নীতি চালু করতে চলেছে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা, যার লক্ষ্য ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করা? 

বাস্তবিক দিক থেকে দেখলে, এনআরসি বাস্তবায়ন একটি জটিল এবং সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আইনি, সামাজিক এবং মানবিক বহু দিক। ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, এর বাস্তব প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়।

অসমের পথে হেঁটে বাংলা কি সত্যিই এনআরসি বা কড়া অনুপ্রবেশ বিরোধী নীতি আনতে চলেছে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা-এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী দিনে সরকারের পদক্ষেপই স্পষ্ট করবে, এই বার্তা বাস্তবায়নের পথে এগোবে, নাকি ভোট রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


অনুপ্রবেশ রুখতে অসম মডেলের পথে বাংলা?

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছে বাংলার নতুন বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচার থেকেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন- অনুপ্রবেশ কোনওভাবেই বরদাশত করা হবে না। সেই অবস্থানেই অনড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার পর একই সুর শোনা গেল শুভেন্দু অধিকারীর গলায়।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে, অসমের মাটি থেকেই শুভেন্দু স্পষ্ট বার্তা দেন- বাংলাও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তিনি দাবি করেন, অসম যেভাবে পরিকল্পিতভাবে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করেছে, বাংলাতেও সেই মডেল প্রয়োগ করা সম্ভব।  তার কথায়, দেশের স্বার্থে এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আমলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে, যার ফলে জনসংখ্যার ভারসাম্য থেকে শুরু করে নিরাপত্তা- সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। এই ইস্যুকেই সামনে রেখে ভোটের ময়দানে বিজেপি আক্রমণ শাণিয়েছিল। 

শুভেন্দুর বক্তব্যে সেই অভিযোগেরই পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, যেখানে তিনি তুষ্টিকরণের রাজনীতিকে সরাসরি দায়ী করেন এবং দাবি করেন, অতীতে সীমান্ত রক্ষায় যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

একইসঙ্গে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কৌশলের প্রশংসা করে তাকে নিজের “বড় ভাই” বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, হিমন্তর কাজের ধরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কঠোরতা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যা বাংলাতেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হবে।

তবে এই সমস্ত মন্তব্যের মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে-বাংলা কি সত্যিই অসমের পথ অনুসরণ করে এনআরসি বা আরও কঠোর অনুপ্রবেশ বিরোধী নীতি চালু করতে চলেছে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা, যার লক্ষ্য ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করা? 

বাস্তবিক দিক থেকে দেখলে, এনআরসি বাস্তবায়ন একটি জটিল এবং সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আইনি, সামাজিক এবং মানবিক বহু দিক। ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, এর বাস্তব প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়।

অসমের পথে হেঁটে বাংলা কি সত্যিই এনআরসি বা কড়া অনুপ্রবেশ বিরোধী নীতি আনতে চলেছে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা-এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী দিনে সরকারের পদক্ষেপই স্পষ্ট করবে, এই বার্তা বাস্তবায়নের পথে এগোবে, নাকি ভোট রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত