সংবাদ

অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম পিটিআই


প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম পিটিআই
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে পিটিআই চত্বর। ছবি : সংবাদ

কুড়িগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ভুয়া বিল এবং অতিরিক্ত ভাতাসহ নানা পন্থায় তিনি প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ ছাড়া তার স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও ভৌত কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর যোগদানের পর থেকেই জয়নুল আবেদীন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম শুরু করেন। অডিট টিমের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রশিক্ষণের নামে তিনি সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সুপারের বাসভবনে না থেকে গেস্ট রুমে অবস্থান করে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া টিচিং লার্নিং মেটেরিয়ালস বাবদ ১০ হাজার, মনোহরি ৬০ হাজার, ভুয়া ভ্রমণ বিল ৫০ হাজার, সরঞ্জাম ক্রয় ২০ হাজার, তথ্য পুস্তক ক্রয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০, ম্যাগাজিন ২০ হাজার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের ডিএ ভাতা ও খাবার বাবদও বড় অঙ্কের টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিটিআই চত্বরটি বর্তমানে ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং হোস্টেলের প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রধান ফটক সব সময় উন্মুক্ত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বহিরাগত ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।

অভিভাবক বিথি আকতার ও আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই। মাঠের দোলনাগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বারবার বলা সত্ত্বেও সুপার কোনো ব্যবস্থা নেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী জানান, তাদের প্রাপ্য ভাতা এখনো দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণের সময় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে এবং পুরোনো ব্যানার ব্যবহার করে নতুন বিল তোলা হয়েছে। রাজশাহী থেকে আসা এক ইনস্ট্রাক্টর বলেন, "হোস্টেলের পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য। খাট ভাঙা, দুর্গন্ধে সেখানে থাকা যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে থাকতে হচ্ছে।"

অডিটর জয়ন্ত জানান, কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে অর্থ তছরুপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সুপারিনটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীন বলেন, "অডিট টিম যেসব অসঙ্গতি পেয়েছে, সেগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। গেস্ট রুমে থাকার বিষয়টি সঠিক, তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য নয়।" বরাদ্দ পেলে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা পরিশোধ করা হবে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম পিটিআই

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ভুয়া বিল এবং অতিরিক্ত ভাতাসহ নানা পন্থায় তিনি প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ ছাড়া তার স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও ভৌত কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর যোগদানের পর থেকেই জয়নুল আবেদীন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম শুরু করেন। অডিট টিমের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রশিক্ষণের নামে তিনি সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সুপারের বাসভবনে না থেকে গেস্ট রুমে অবস্থান করে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া টিচিং লার্নিং মেটেরিয়ালস বাবদ ১০ হাজার, মনোহরি ৬০ হাজার, ভুয়া ভ্রমণ বিল ৫০ হাজার, সরঞ্জাম ক্রয় ২০ হাজার, তথ্য পুস্তক ক্রয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০, ম্যাগাজিন ২০ হাজার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের ডিএ ভাতা ও খাবার বাবদও বড় অঙ্কের টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিটিআই চত্বরটি বর্তমানে ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং হোস্টেলের প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রধান ফটক সব সময় উন্মুক্ত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বহিরাগত ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।

অভিভাবক বিথি আকতার ও আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই। মাঠের দোলনাগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বারবার বলা সত্ত্বেও সুপার কোনো ব্যবস্থা নেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী জানান, তাদের প্রাপ্য ভাতা এখনো দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণের সময় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে এবং পুরোনো ব্যানার ব্যবহার করে নতুন বিল তোলা হয়েছে। রাজশাহী থেকে আসা এক ইনস্ট্রাক্টর বলেন, "হোস্টেলের পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য। খাট ভাঙা, দুর্গন্ধে সেখানে থাকা যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে থাকতে হচ্ছে।"

অডিটর জয়ন্ত জানান, কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে অর্থ তছরুপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সুপারিনটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীন বলেন, "অডিট টিম যেসব অসঙ্গতি পেয়েছে, সেগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। গেস্ট রুমে থাকার বিষয়টি সঠিক, তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য নয়।" বরাদ্দ পেলে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা পরিশোধ করা হবে বলেও তিনি জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত