সংবাদ

ট্রেনে নারীদের পৃথক কামরা: ঈদে হাইকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

ট্রেনে নারীদের পৃথক কামরা: ঈদে হাইকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো নারী যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে দেশের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে একটি করে পৃথক কামরা বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।

আইনজীবী আজমল হোসেন জানান, ‘১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে শৌচাগার সংযুক্ত রাখার বিধানও রয়েছে। এছাড়া ১১৯ ধারা অনুযায়ী, ওই কামরায় বিনা অনুমতিতে কোনো পুরুষ প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান আছে।’

শুনানি শেষে আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন সংবাদকে বলেন, “আইনটি ১৩০ বছরের পুরনো হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নেই। গত রোজার ঈদে নারীদের জন্য আলাদা কোনো কামরা ছিল না, ফলে অনেক নারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়তে দেখা গেছে। এটি তাদের আইনগত অধিকারের লঙ্ঘন।”

তিনি বলেন, “আদালত প্রথমে নারী ও শিশুদের জন্য যৌথভাবে কামরা বরাদ্দের কথা ভেবেছিলেন। তবে স্বামী বা অভিভাবক সাথে থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে, শুধুমাত্র নারীদের জন্য একটি করে আলাদা কামরা বরাদ্দের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন।”

এর আগে ২০২১ সালে এই আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আইনজীবী মমতাজ পারভীন একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই সময় হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন কেন ট্রেনের প্রতিটি কোচে নারীদের জন্য আলাদা কামরা এবং শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ করা হবে না। সেই বিচারাধীন রুলের ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই সম্পূরক আদেশ দিলেন উচ্চ আদালত।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালের কিছু ঈদে এই সুবিধা কার্যকর থাকলেও গত ঈদুল ফিতরে তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলেও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


ট্রেনে নারীদের পৃথক কামরা: ঈদে হাইকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো নারী যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে দেশের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে একটি করে পৃথক কামরা বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।

আইনজীবী আজমল হোসেন জানান, ‘১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে শৌচাগার সংযুক্ত রাখার বিধানও রয়েছে। এছাড়া ১১৯ ধারা অনুযায়ী, ওই কামরায় বিনা অনুমতিতে কোনো পুরুষ প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান আছে।’

শুনানি শেষে আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন সংবাদকে বলেন, “আইনটি ১৩০ বছরের পুরনো হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নেই। গত রোজার ঈদে নারীদের জন্য আলাদা কোনো কামরা ছিল না, ফলে অনেক নারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়তে দেখা গেছে। এটি তাদের আইনগত অধিকারের লঙ্ঘন।”

তিনি বলেন, “আদালত প্রথমে নারী ও শিশুদের জন্য যৌথভাবে কামরা বরাদ্দের কথা ভেবেছিলেন। তবে স্বামী বা অভিভাবক সাথে থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে, শুধুমাত্র নারীদের জন্য একটি করে আলাদা কামরা বরাদ্দের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন।”

এর আগে ২০২১ সালে এই আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আইনজীবী মমতাজ পারভীন একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই সময় হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন কেন ট্রেনের প্রতিটি কোচে নারীদের জন্য আলাদা কামরা এবং শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ করা হবে না। সেই বিচারাধীন রুলের ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই সম্পূরক আদেশ দিলেন উচ্চ আদালত।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালের কিছু ঈদে এই সুবিধা কার্যকর থাকলেও গত ঈদুল ফিতরে তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলেও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত