সংবাদ

ভারতীয় গরু বন্ধে আশাবাদী দেশি খামারিরা


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:১৫ এএম

ভারতীয় গরু বন্ধে আশাবাদী দেশি খামারিরা
সাতক্ষীরার বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত গরু। ছবি : সংবাদ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে কোরবানিযোগ্য ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, গমের ভুসি, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈলসহ সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম এখন চড়া। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তিনি সংশয়ে আছেন। তবে পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ জানান, তার খামারে ৮ লাখ টাকা দামের দুটি বড় গরু রয়েছে। ক্রেতা সমাগম ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনিও কিছুটা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

অবশ্য সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকায় দেশি পশুর ভালো বাজার পাওয়ার আশা করছেন কেউ কেউ। বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ বলেন, প্রাকৃতিক ঘাস ও দেশি খাদ্যে বড় করা পশুর চাহিদা বাজারে সব সময় থাকে। তাই তিনি লাভের আশা ছাড়ছেন না।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, “চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকলেও বাজারে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। ভারতীয় গরু যাতে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি রয়েছে। পশুখাদ্যের দাম বেশি হলেও ভারতীয় গরু না আসায় খামারিরা শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাবেন বলে আমরা আশা করছি।”

দেশি পশুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোরবানির বাজারে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা কমেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


ভারতীয় গরু বন্ধে আশাবাদী দেশি খামারিরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে কোরবানিযোগ্য ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, গমের ভুসি, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈলসহ সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম এখন চড়া। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তিনি সংশয়ে আছেন। তবে পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ জানান, তার খামারে ৮ লাখ টাকা দামের দুটি বড় গরু রয়েছে। ক্রেতা সমাগম ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনিও কিছুটা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

অবশ্য সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকায় দেশি পশুর ভালো বাজার পাওয়ার আশা করছেন কেউ কেউ। বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ বলেন, প্রাকৃতিক ঘাস ও দেশি খাদ্যে বড় করা পশুর চাহিদা বাজারে সব সময় থাকে। তাই তিনি লাভের আশা ছাড়ছেন না।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, “চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকলেও বাজারে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। ভারতীয় গরু যাতে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি রয়েছে। পশুখাদ্যের দাম বেশি হলেও ভারতীয় গরু না আসায় খামারিরা শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাবেন বলে আমরা আশা করছি।”

দেশি পশুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোরবানির বাজারে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা কমেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত