সংবাদ

উৎসবের রঙে সেজেছে ঐতিহাসিক মসূয়া গ্রাম


প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:২২ এএম

উৎসবের রঙে সেজেছে ঐতিহাসিক মসূয়া গ্রাম
পসরা সাজিয়ে বসেছেন দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রাম এখন উৎসবের রঙে রঙিন। বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ‘রায়বাড়ি’র প্রাঙ্গণে বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। তিন দিনব্যাপী এই মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন সাজ সাজ রব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেলা দাপ্তরিকভাবে তিন দিনের হলেও এর রেশ থাকে অন্তত এক সপ্তাহ। শ্রী শ্রী কাল ভৈরবী পূজাকে কেন্দ্র করে জমিদার হরিকিশোর রায় চৌধুরীর আমলে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। কালক্রমে এটি জেলার অন্যতম বৃহৎ লোকজ মেলায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়বাড়ির বিশাল মাঠজুড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, কাঠের আসবাব, খেলনা ও প্রসাধনীর পসরা সাজিয়েছেন। শিশুদের বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে নাগরদোলা ও চরকি। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আশপাশের জমিতেও দোকান পেতেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মেলার ইজারা মূল্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। গত বছর মেলার ইজারা ছিল ৭১ হাজার ৭০০ টাকা, যা এবার দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকায়। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এবার আধুনিক রেস্টহাউসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই রায়বাড়িতেই ১৮৬০ সালে জন্ম নেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী। পরে ১৮৮৭ সালে এখানেই জন্ম হয় কিংবদন্তি সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের। সম্প্রতি রায়বাড়ির পুকুরঘাট ও ধ্বংসপ্রায় স্থাপনা সংস্কার করায় এর সৌন্দর্য বেড়েছে। ফলে মেলা ছাড়াও বছরজুড়ে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, “এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। মেলাটি যাতে নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় হয়, সে জন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা করছি।”

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


উৎসবের রঙে সেজেছে ঐতিহাসিক মসূয়া গ্রাম

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রাম এখন উৎসবের রঙে রঙিন। বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ‘রায়বাড়ি’র প্রাঙ্গণে বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। তিন দিনব্যাপী এই মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন সাজ সাজ রব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেলা দাপ্তরিকভাবে তিন দিনের হলেও এর রেশ থাকে অন্তত এক সপ্তাহ। শ্রী শ্রী কাল ভৈরবী পূজাকে কেন্দ্র করে জমিদার হরিকিশোর রায় চৌধুরীর আমলে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। কালক্রমে এটি জেলার অন্যতম বৃহৎ লোকজ মেলায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়বাড়ির বিশাল মাঠজুড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, কাঠের আসবাব, খেলনা ও প্রসাধনীর পসরা সাজিয়েছেন। শিশুদের বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে নাগরদোলা ও চরকি। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আশপাশের জমিতেও দোকান পেতেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মেলার ইজারা মূল্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। গত বছর মেলার ইজারা ছিল ৭১ হাজার ৭০০ টাকা, যা এবার দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকায়। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এবার আধুনিক রেস্টহাউসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই রায়বাড়িতেই ১৮৬০ সালে জন্ম নেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী। পরে ১৮৮৭ সালে এখানেই জন্ম হয় কিংবদন্তি সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের। সম্প্রতি রায়বাড়ির পুকুরঘাট ও ধ্বংসপ্রায় স্থাপনা সংস্কার করায় এর সৌন্দর্য বেড়েছে। ফলে মেলা ছাড়াও বছরজুড়ে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, “এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। মেলাটি যাতে নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় হয়, সে জন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা করছি।”

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত