নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এখনো নৌকা ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু থাকলে মাত্র ২০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়েই উপজেলা সদরে পৌঁছানো সম্ভব হতো। সেতু না থাকায় বর্তমানে তাদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটিই বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রসাদপুর, গনেশপুর, মৈনম, কাঁশোপাড়া ও কশব ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারে যাওয়ার জন্য এই ঘাটটি ব্যবহার করেন।
বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়। তখন পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। অনেক সময় নৌকার জন্য ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, ‘বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও সন্তানসম্ভবা নারীদের হাসপাতালে নিতে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়। অনেক সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।’ ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরিফ উদ্দিন জানান, প্রতিদিন অন্তত ১৫-১৬ হাজার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন, যা বর্ষাকালে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। এলাকার শিক্ষার্থী ইকবাল মাহমুদ তামিম জানায়, ছোট শিশুদের নৌকায় পার করে দিতে অভিভাবকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে এলজিইডির পক্ষ থেকে কয়েক দফা জরিপ ও মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প অনুমোদিত হলে এই সেতুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জরিপ শেষ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পটি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।’

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এখনো নৌকা ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু থাকলে মাত্র ২০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়েই উপজেলা সদরে পৌঁছানো সম্ভব হতো। সেতু না থাকায় বর্তমানে তাদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটিই বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রসাদপুর, গনেশপুর, মৈনম, কাঁশোপাড়া ও কশব ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারে যাওয়ার জন্য এই ঘাটটি ব্যবহার করেন।
বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়। তখন পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। অনেক সময় নৌকার জন্য ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, ‘বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও সন্তানসম্ভবা নারীদের হাসপাতালে নিতে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়। অনেক সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।’ ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরিফ উদ্দিন জানান, প্রতিদিন অন্তত ১৫-১৬ হাজার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন, যা বর্ষাকালে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। এলাকার শিক্ষার্থী ইকবাল মাহমুদ তামিম জানায়, ছোট শিশুদের নৌকায় পার করে দিতে অভিভাবকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে এলজিইডির পক্ষ থেকে কয়েক দফা জরিপ ও মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প অনুমোদিত হলে এই সেতুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জরিপ শেষ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পটি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন