সংবাদ

ভোলায় কোটি টাকার ইলিশ জব্দে বিতর্ক


প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

ভোলায় কোটি টাকার ইলিশ জব্দে বিতর্ক
জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ। ছবি : সংবাদ

ভোলায় মৎস্য অধিদপ্তরের বৈধ অনুমতিপত্র থাকার পরও ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ১০,১৪০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ ও বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি, মাছগুলো সাগরে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এগুলো নদী থেকে আহরিত বৈধ মাছ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়হীনতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১০টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজার এলাকায় ৩ টি ট্রাক ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর। পরে জব্দ করা মাছগুলো রাতেই স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবে দেশের নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে কোনো বাধা নেই। ব্যবসায়ীরা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে আহরিত এসব মাছের সপক্ষে মৎস্য বিভাগের দেওয়া নির্দিষ্ট ‘অনুমতিপত্র’ (ক্লিয়ারেন্স) প্রদর্শন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের কাছে বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও কোনো কথা না শুনেই মাছগুলো সাগরের বলে জব্দ করা হলো। সরকারি কাগজ কি তবে ভুয়া?’

ঘটনার বিষয়ে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এগুলো সাগরের মাছ। মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই মাছগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

তবে বিতর্ক জোরালো হয়েছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘মাছগুলো নদী থেকে আহরিত এর সত্যতা যাচাই করেই আমি অনুমতিপত্র দিয়েছি। আমার দেওয়া সরকারি কাগজের কেন মূল্যায়ন হলো না, তা বড় প্রশ্ন।’ অন্যদিকে ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বিতরণকালে উপস্থিত থাকলেও অনুমতিপত্রের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাগরের ও নদীর ইলিশ শনাক্তে কোনো তাৎক্ষণিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে এত বড় চালান বিতরণ করে দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই ঘটনার ফলে ভোলার মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


ভোলায় কোটি টাকার ইলিশ জব্দে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

ভোলায় মৎস্য অধিদপ্তরের বৈধ অনুমতিপত্র থাকার পরও ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ১০,১৪০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ ও বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি, মাছগুলো সাগরে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এগুলো নদী থেকে আহরিত বৈধ মাছ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়হীনতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১০টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজার এলাকায় ৩ টি ট্রাক ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর। পরে জব্দ করা মাছগুলো রাতেই স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবে দেশের নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে কোনো বাধা নেই। ব্যবসায়ীরা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে আহরিত এসব মাছের সপক্ষে মৎস্য বিভাগের দেওয়া নির্দিষ্ট ‘অনুমতিপত্র’ (ক্লিয়ারেন্স) প্রদর্শন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের কাছে বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও কোনো কথা না শুনেই মাছগুলো সাগরের বলে জব্দ করা হলো। সরকারি কাগজ কি তবে ভুয়া?’

ঘটনার বিষয়ে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এগুলো সাগরের মাছ। মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই মাছগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

তবে বিতর্ক জোরালো হয়েছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘মাছগুলো নদী থেকে আহরিত এর সত্যতা যাচাই করেই আমি অনুমতিপত্র দিয়েছি। আমার দেওয়া সরকারি কাগজের কেন মূল্যায়ন হলো না, তা বড় প্রশ্ন।’ অন্যদিকে ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বিতরণকালে উপস্থিত থাকলেও অনুমতিপত্রের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাগরের ও নদীর ইলিশ শনাক্তে কোনো তাৎক্ষণিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে এত বড় চালান বিতরণ করে দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই ঘটনার ফলে ভোলার মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত