সংবাদ

শিশুদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত কিশোর ও বয়স্করা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

শিশুদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত কিশোর ও বয়স্করা
শরীরে হামের র‍্যাশ নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা। ছবি : সংবাদ

রংপুর অঞ্চলে শিশুদের পাশাপাশি এখন কিশোর ও বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। বড়দের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩ দিনে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার অন্তত ৭ জন কিশোর ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিশোর ও বয়স্ক রোগীদের জন্য আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করেছে। বর্তমানে সেখানে সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানান, শুরুতে তীব্র জ্বর, সর্দি ও কাশির পর সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিচ্ছে। মুখমণ্ডল এমনকি মুখের ভেতরেও র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ায় তারা প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভুগছেন। হাম ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আশরাফ বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। তবে সাধারণত শিশুদের এটি বেশি হলেও বর্তমানে কিশোর ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নতুন খোলা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি সাত রোগীর মধ্যে চারজনের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। বাকি তিনজনের বয়স ৩৫ থেকে ৫০ বছর।

গাইবান্ধা থেকে আসা হামে আক্রান্ত ইয়ামিন মোল্লা (৫০) জানান, চার দিন আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পুরো শরীর ও মুখমণ্ডল র‍্যাশে ভরে যাওয়ায় তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বলেন, ‘মুখের ভেতরের র‍্যাশের কারণে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, কিছুই খেতে পারছি না।’ একই ধরনের কষ্টের কথা জানান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের আউয়াল (৩৮) ও লালমনিরহাটের সিরাজুল ইসলাম (৪০)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরের সিও বাজার এলাকার কিশোর সিহাবের (১৬) অবস্থা এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া তারাগঞ্জের ফিরোজুলসহ (১৪) আরও দুই রোগীর অবস্থা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত নার্স আসমা সুলতানা।

হাসপাতালের সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩৯ জন এবং বড়দের ওয়ার্ডে ৭ জনসহ মোট ৪৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোগীরা নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


শিশুদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত কিশোর ও বয়স্করা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

রংপুর অঞ্চলে শিশুদের পাশাপাশি এখন কিশোর ও বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। বড়দের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩ দিনে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার অন্তত ৭ জন কিশোর ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিশোর ও বয়স্ক রোগীদের জন্য আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করেছে। বর্তমানে সেখানে সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানান, শুরুতে তীব্র জ্বর, সর্দি ও কাশির পর সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিচ্ছে। মুখমণ্ডল এমনকি মুখের ভেতরেও র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ায় তারা প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভুগছেন। হাম ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আশরাফ বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। তবে সাধারণত শিশুদের এটি বেশি হলেও বর্তমানে কিশোর ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নতুন খোলা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি সাত রোগীর মধ্যে চারজনের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। বাকি তিনজনের বয়স ৩৫ থেকে ৫০ বছর।

গাইবান্ধা থেকে আসা হামে আক্রান্ত ইয়ামিন মোল্লা (৫০) জানান, চার দিন আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পুরো শরীর ও মুখমণ্ডল র‍্যাশে ভরে যাওয়ায় তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বলেন, ‘মুখের ভেতরের র‍্যাশের কারণে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, কিছুই খেতে পারছি না।’ একই ধরনের কষ্টের কথা জানান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের আউয়াল (৩৮) ও লালমনিরহাটের সিরাজুল ইসলাম (৪০)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরের সিও বাজার এলাকার কিশোর সিহাবের (১৬) অবস্থা এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া তারাগঞ্জের ফিরোজুলসহ (১৪) আরও দুই রোগীর অবস্থা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত নার্স আসমা সুলতানা।

হাসপাতালের সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩৯ জন এবং বড়দের ওয়ার্ডে ৭ জনসহ মোট ৪৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোগীরা নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত