সংবাদ

শ্রমবাজারে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিন


প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শ্রমবাজারে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিন

বাংলাদেশের লাখো পরিবারের জীবিকা বহুলাংশে নির্ভর করে প্রবাসী কর্মীদের ওপর। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার। চলমান ইরান সংকট প্রধান এই শ্রমবাজারকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। সেখানে কর্মসংস্থান কমছে, শ্রমিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছেন। 

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই, মজুরি কমে যাওয়া এবং কাজ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন নিম্নআয়ের শ্রমিকরা। তাদের অনেকেই ঋণ করে বিদেশে যান। কোনো কারণে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে হলে তাদেরকে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। 

মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুধু শ্রমিক ফিরিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়। এসব শ্রমিকের পুনর্বাসন করাও জরুরি। করোনা মহামারির সময় দেশে ফেরা শ্রমিকদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার যেন সেই পরিস্থিতির উদ্ভব না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দূতাবাসভিত্তিক জরুরি সহায়তা দিতে হবে। সংকটের সময়ে কোন শ্রমিক কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন সেটা জানতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের কী ধরনের সহায়তা দরকার তা জানতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

ইরান সংকট আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে এক বা দুটি অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। দক্ষ কর্মী তৈরির দিকেও জোর দিতে হবে। বিশ্ববাজারে এখন দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের চাহিদা বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় শ্রমশক্তিকে প্রস্তুত করতে না পারলে প্রতিযোগিতায় শ্রম বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


শ্রমবাজারে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের লাখো পরিবারের জীবিকা বহুলাংশে নির্ভর করে প্রবাসী কর্মীদের ওপর। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার। চলমান ইরান সংকট প্রধান এই শ্রমবাজারকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। সেখানে কর্মসংস্থান কমছে, শ্রমিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছেন। 

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই, মজুরি কমে যাওয়া এবং কাজ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন নিম্নআয়ের শ্রমিকরা। তাদের অনেকেই ঋণ করে বিদেশে যান। কোনো কারণে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে হলে তাদেরকে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। 

মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুধু শ্রমিক ফিরিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়। এসব শ্রমিকের পুনর্বাসন করাও জরুরি। করোনা মহামারির সময় দেশে ফেরা শ্রমিকদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার যেন সেই পরিস্থিতির উদ্ভব না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দূতাবাসভিত্তিক জরুরি সহায়তা দিতে হবে। সংকটের সময়ে কোন শ্রমিক কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন সেটা জানতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের কী ধরনের সহায়তা দরকার তা জানতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

ইরান সংকট আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে এক বা দুটি অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। দক্ষ কর্মী তৈরির দিকেও জোর দিতে হবে। বিশ্ববাজারে এখন দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের চাহিদা বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় শ্রমশক্তিকে প্রস্তুত করতে না পারলে প্রতিযোগিতায় শ্রম বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত