নিজের চালিত ট্রলার নিয়ে মাছের পোনা পৌঁছে দিতে এসেছিলেন মোংলা ঘাটে। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। কিন্তু ঘাটে নামার মুহূর্তেই পা পিছলে নদীতে পড়ে তলিয়ে গেলেন ট্রলার মাঝি মো. হোসেন মোড়ল (৪০)। চোখের সামনে স্বামীকে তলিয়ে যেতে দেখে স্ত্রী ও সন্তানের চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে নদীর বাতাস।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে মোংলা পৌর শহরের লেবার ঘাট এলাকায় পশুর নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হোসেন মোড়ল খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেন মোড়ল প্রতিদিন চালনা থেকে বিভিন্ন হ্যাচারির মাছের পোনা নিয়ে মোংলায় আসতেন। সকালেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি ট্রলারে করে পোনা নিয়ে আসেন। লেবার ঘাটে ট্রলারটি ভেড়ানোর পর তিনি নামার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে তিনি খরস্রোতা নদীতে পড়ে যান। তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং অন্য মাঝিরা দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও হোসেন মুহূর্তেই তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে মোংলা ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল। বিকেল পর্যন্ত তিন বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা চললেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মোংলা ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিখোঁজ মাঝির স্ত্রী ও সন্তানের সামনেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর থেকেই আমাদের ডুবুরি দলসহ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আপনার মতামত লিখুন