সংবাদ

অস্তিত্ব সংকটে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০২:০১ পিএম

অস্তিত্ব সংকটে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর
দখল ও দূষণে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে কাওয়াদিঘী হাওর। ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর একসময় ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম জীবন্ত জলাভূমি। বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি আর শীতে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত এই এলাকা। তবে দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় হাওরটি এখন তার স্বাভাবিক রূপ ও জীববৈচিত্র্য হারাতে বসেছে।

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর এলাকা রাজনগরে এবং বাকি অংশ সদর উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকা এই হাওরের ওপর ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সচেনতার অভাব ও অযত্নে হাওরটির পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, কোথাও পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, আবার কোথাও অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং শীতের অতিথি পাখিদের আনাগোনাও কমে গেছে। রাজনগরের বাসিন্দা রহিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে কুয়াশা ভেদ করে ভোরে নৌকা চলার যে দৃশ্য দেখা যেত, এখন আর তেমনটি চোখে পড়ে না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই জলাভূমিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলো শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিরও বড় চালিকাশক্তি। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে কাওয়াদিঘী হাওরকে কেন্দ্র করে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নৌভ্রমণ, পাখি পর্যবেক্ষণ ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের মাধ্যমে এটি একটি সম্ভাবনাময় ‘ইকো-ট্যুরিজম’ কেন্দ্র হতে পারে।

তবে কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা না নিলে কাওয়াদিঘী হাওর তার আদি বৈশিষ্ট্য চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


অস্তিত্ব সংকটে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর একসময় ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম জীবন্ত জলাভূমি। বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি আর শীতে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত এই এলাকা। তবে দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় হাওরটি এখন তার স্বাভাবিক রূপ ও জীববৈচিত্র্য হারাতে বসেছে।

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর এলাকা রাজনগরে এবং বাকি অংশ সদর উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকা এই হাওরের ওপর ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সচেনতার অভাব ও অযত্নে হাওরটির পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, কোথাও পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, আবার কোথাও অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং শীতের অতিথি পাখিদের আনাগোনাও কমে গেছে। রাজনগরের বাসিন্দা রহিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে কুয়াশা ভেদ করে ভোরে নৌকা চলার যে দৃশ্য দেখা যেত, এখন আর তেমনটি চোখে পড়ে না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই জলাভূমিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলো শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিরও বড় চালিকাশক্তি। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে কাওয়াদিঘী হাওরকে কেন্দ্র করে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নৌভ্রমণ, পাখি পর্যবেক্ষণ ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের মাধ্যমে এটি একটি সম্ভাবনাময় ‘ইকো-ট্যুরিজম’ কেন্দ্র হতে পারে।

তবে কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা না নিলে কাওয়াদিঘী হাওর তার আদি বৈশিষ্ট্য চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত