সংবাদ

বাম্পার ফলন হলেও ধানে লোকসান গুনছেন কৃষক


প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

বাম্পার ফলন হলেও ধানে লোকসান গুনছেন কৃষক
ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা। ছবি : সংবাদ

প্রকৃতি আর বাজার উভয় দিক থেকেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন লালমনিরহাটের বোরো চাষিরা। একদিকে মাঠজুড়ে সোনালি ধান, অন্যদিকে আকাশজুড়ে বৃষ্টির শঙ্কা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ধানের কম দাম। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে বাজারে যে দরে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৮ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১০ হেক্টর বেশি। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। কোথাও আবার কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই কৃষকদের। চাষিরা জানান, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ায় এবার খরচ বেড়েছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে সাড়ে ৯০০ থেকে ১,০০০। অথচ বাজারে বর্তমানে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে। ফলে প্রতি মণে অন্তত ৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই গ্রামের কৃষক সবুর মণ্ডল বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগেই ধান পেকেছে। কিন্তু বৃষ্টির ভয়ে কাটতে পারছি না। কাটলে যদি শুকাতে না পারি, তবে সব নষ্ট হয়ে যাবে।’ সদর উপজেলার কালমাটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১,৪০০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে আমরা ৭০০ টাকার বেশি পাচ্ছি না। লাভ সব মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যাচ্ছে।’

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘৮০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধান শুকিয়ে সরাসরি সরকারি গুদামে বিক্রি করলে কৃষকেরা লোকসান এড়িয়ে লাভবান হতে পারবেন। আমরা ধান কেনাবেচার জন্য কৃষকদের তালিকা খাদ্য বিভাগে পাঠিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


বাম্পার ফলন হলেও ধানে লোকসান গুনছেন কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

প্রকৃতি আর বাজার উভয় দিক থেকেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন লালমনিরহাটের বোরো চাষিরা। একদিকে মাঠজুড়ে সোনালি ধান, অন্যদিকে আকাশজুড়ে বৃষ্টির শঙ্কা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ধানের কম দাম। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে বাজারে যে দরে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৮ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১০ হেক্টর বেশি। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। কোথাও আবার কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই কৃষকদের। চাষিরা জানান, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ায় এবার খরচ বেড়েছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে সাড়ে ৯০০ থেকে ১,০০০। অথচ বাজারে বর্তমানে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে। ফলে প্রতি মণে অন্তত ৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই গ্রামের কৃষক সবুর মণ্ডল বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগেই ধান পেকেছে। কিন্তু বৃষ্টির ভয়ে কাটতে পারছি না। কাটলে যদি শুকাতে না পারি, তবে সব নষ্ট হয়ে যাবে।’ সদর উপজেলার কালমাটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১,৪০০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে আমরা ৭০০ টাকার বেশি পাচ্ছি না। লাভ সব মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যাচ্ছে।’

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘৮০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধান শুকিয়ে সরাসরি সরকারি গুদামে বিক্রি করলে কৃষকেরা লোকসান এড়িয়ে লাভবান হতে পারবেন। আমরা ধান কেনাবেচার জন্য কৃষকদের তালিকা খাদ্য বিভাগে পাঠিয়েছি।’



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত