সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সর্বশেষ তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মিজানুর রহমান সিনহার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের পথিকৃৎ ও একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মিজানুর রহমান সিনহা নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।
১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৭৫ সালে তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে দলটি সেখানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদকে মনোনয়ন দেয়।
রাজনীতির বাইরেও একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম আজাদ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন