দেশে চলমান হামের প্রকোপ এবং এতে শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি
সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাম সংকটের এই
দায় সম্পূর্ণভাবে সরকারকে নিতে হবে। একই
সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে অনতিবিলম্বে
‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি বা স্বাস্থ্য জরুরি
অবস্থা’ ঘোষণা করার আহ্বান জানান
তিনি।
রাজধানীর
পুরানা পল্টনের বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি
বলেন, "সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে ‘মেডিক্যাল
ইমার্জেন্সি (স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা)’ ঘোষণা করা। কয়েকটি হাসপাতালকে
বিশেষায়িত ঘোষণা করা শুধু হামের
চিকিৎসার জন্য।"
সারা
দেশে চার শতাধিক শিশুর
মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে
তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংসদে এই বিষয়ে কথা
বলেছেন জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন,
"বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে
নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে
চায়, নিজেরা কোনো দায়িত্ব নিতে
চায় না। কিন্তু এই
সংকটের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারকে নিতে হবে।"
তিনি
আরও যোগ করেন, "যদি
অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো অব্যবস্থাপনা থাকে
এই হামের সংকটের জন্য, তাদের কঠোর থেকে কঠোর
বিচারের আওতায় আনুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা
করব। কিন্তু জ্বালানিসংকটের মতো এর ঘাড়ে
ওর ঘাড়ে দায় চাপাবেন
না।"
নাহিদ
ইসলাম অভিযোগ করেন যে সরকার
জনগণের রায় ও প্রত্যাশার
সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন,
"আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেমেছিলাম
সংস্কারের পক্ষে। নির্বাচনে পুনরায় জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছিল।
কিন্তু সেই সংস্কারের সঙ্গে,
জনগণের সঙ্গে বর্তমান সরকার বেইমানি করেছে। বর্তমান সরকার প্রতারণা করেছে এবং গণভোটকে তারা
অস্বীকার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সকল অধ্যাদেশ তারা
বাতিল করে দিয়েছে।"
একই
সাথে সীমান্ত হত্যা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়
প্রয়োজনে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
"আমরা সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর
অন্যতম একটি সীমান্ত, যেটাকে
রক্তাক্ত সীমান্ত বলা হয়। হাজারের
ওপর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এই
সীমান্তে গুলি করে।"
ঐতিহাসিক
ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে এনসিপি নেতা
স্পষ্ট বার্তা দেন, "মাওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে লংমার্চ করেছিলেন। যদি প্রয়োজন হয়,
আমরা সীমান্ত লংমার্চ ঘোষণা করব। বাংলাদেশের সীমান্তকে
আমরা সুরক্ষা করব; বাংলাদেশের নদীর
পানির হিস্যা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আমরা রক্ষা করব।"
এছাড়া
আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
করে তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী
সরকারের শেষ সময়ে এসে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি
হয়েছে, যে চুক্তি নিয়ে
সংসদে কোনো ধরনের কথা
বলার সুযোগ ছিল না। কারণ,
গণভোট এবং অধ্যাদেশ নিয়ে
আমরা কথা বলার সুযোগ
পাইনি।"

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
দেশে চলমান হামের প্রকোপ এবং এতে শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি
সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাম সংকটের এই
দায় সম্পূর্ণভাবে সরকারকে নিতে হবে। একই
সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে অনতিবিলম্বে
‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি বা স্বাস্থ্য জরুরি
অবস্থা’ ঘোষণা করার আহ্বান জানান
তিনি।
রাজধানীর
পুরানা পল্টনের বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি
বলেন, "সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে ‘মেডিক্যাল
ইমার্জেন্সি (স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা)’ ঘোষণা করা। কয়েকটি হাসপাতালকে
বিশেষায়িত ঘোষণা করা শুধু হামের
চিকিৎসার জন্য।"
সারা
দেশে চার শতাধিক শিশুর
মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে
তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংসদে এই বিষয়ে কথা
বলেছেন জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন,
"বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে
নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে
চায়, নিজেরা কোনো দায়িত্ব নিতে
চায় না। কিন্তু এই
সংকটের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারকে নিতে হবে।"
তিনি
আরও যোগ করেন, "যদি
অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো অব্যবস্থাপনা থাকে
এই হামের সংকটের জন্য, তাদের কঠোর থেকে কঠোর
বিচারের আওতায় আনুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা
করব। কিন্তু জ্বালানিসংকটের মতো এর ঘাড়ে
ওর ঘাড়ে দায় চাপাবেন
না।"
নাহিদ
ইসলাম অভিযোগ করেন যে সরকার
জনগণের রায় ও প্রত্যাশার
সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন,
"আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেমেছিলাম
সংস্কারের পক্ষে। নির্বাচনে পুনরায় জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছিল।
কিন্তু সেই সংস্কারের সঙ্গে,
জনগণের সঙ্গে বর্তমান সরকার বেইমানি করেছে। বর্তমান সরকার প্রতারণা করেছে এবং গণভোটকে তারা
অস্বীকার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সকল অধ্যাদেশ তারা
বাতিল করে দিয়েছে।"
একই
সাথে সীমান্ত হত্যা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়
প্রয়োজনে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
"আমরা সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর
অন্যতম একটি সীমান্ত, যেটাকে
রক্তাক্ত সীমান্ত বলা হয়। হাজারের
ওপর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এই
সীমান্তে গুলি করে।"
ঐতিহাসিক
ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে এনসিপি নেতা
স্পষ্ট বার্তা দেন, "মাওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে লংমার্চ করেছিলেন। যদি প্রয়োজন হয়,
আমরা সীমান্ত লংমার্চ ঘোষণা করব। বাংলাদেশের সীমান্তকে
আমরা সুরক্ষা করব; বাংলাদেশের নদীর
পানির হিস্যা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আমরা রক্ষা করব।"
এছাড়া
আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
করে তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী
সরকারের শেষ সময়ে এসে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি
হয়েছে, যে চুক্তি নিয়ে
সংসদে কোনো ধরনের কথা
বলার সুযোগ ছিল না। কারণ,
গণভোট এবং অধ্যাদেশ নিয়ে
আমরা কথা বলার সুযোগ
পাইনি।"

আপনার মতামত লিখুন