স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়, নাকি নির্দলীয় হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে এবার ৬৪টি উপজেলা পরিষদ ও ৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রবিবার (১০ মে) বিকেলে ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ৫ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল দলটি।
রবিবার এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারেরও বেশি আবেদন জমা হয়েছিল। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আশা করছি, ঈদের আগেই এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আবার ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করব। এই নাম ঘোষণার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করতে অধ্যাদেশ জারি করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এখন বিষয়টি আইনে পরিণত করতে হবে জাতীয় সংসদে। এবার নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য বিএনপি সংসদে সরকারি দল হওয়ায় এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় সরকারের ভোট দলীয় প্রতীকে হবে কিনা।
এদিকে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করতে রোববার সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ইউনূস সরকারের এই উপদেষ্টাকে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। সেদিন ঢাকা উত্তর, কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনেরও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলা ও পৌরসভার জন্য ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল দলটি।
চব্বিশের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের গড়া সংগঠন এনসিপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যে (জোট) শরীক হয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ সব উপজেলায় ১১ দল মিলে একজন প্রার্থী বেছে নেওয়া কষ্টকর।”
এরপরও যদি জোটের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তাহলে সেটি সেসময় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সারজিস।
তিনি বলেন, “সারাদেশ থেকে এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের যারা পরিশ্রমী, গ্রহণযোগ্য, যারা মানুষের ওপর কখনো জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের পর্যায়ে অপরাধের সম্পৃক্ততা ছিল না; তারা অন্য যেকোন রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।”
সারজিস আলম বলেন, “সার্বিকভাবে যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে যদি কেউ আসতে চায়, তাদেরকেও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
স্থানীয় সরকারে কোন বিভাগে কত প্রার্থী
রংপুর বিভাগ - ১০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫ জন পৌর মেয়র; রাজশাহী বিভাগ - ৮ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫ জন পৌর মেয়র; সিলেট বিভাগ - ৮ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন পৌর মেয়র; ময়মনসিংহ বিভাগ - ৮ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৩ জন পৌর মেয়র; ঢাকা বিভাগ উত্তর - ৭ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৪ জন পৌর মেয়র; ঢাকা বিভাগ দক্ষিণ - ২ উপজেলা চেয়ারম্যান; ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগ- একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৪ পৌর মেয়র; খুলনা বিভাগ - ৬ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৭ জন পৌর মেয়র; বরিশাল বিভাগ - ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ১ জন পৌর মেয়র; কুমিল্লা বিভাগ - ৬ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ১ পৌর মেয়র; চট্টগ্রাম বিভাগ - ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৪ পৌর মেয়র।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়, নাকি নির্দলীয় হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে এবার ৬৪টি উপজেলা পরিষদ ও ৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রবিবার (১০ মে) বিকেলে ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ৫ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল দলটি।
রবিবার এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারেরও বেশি আবেদন জমা হয়েছিল। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আশা করছি, ঈদের আগেই এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আবার ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করব। এই নাম ঘোষণার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করতে অধ্যাদেশ জারি করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এখন বিষয়টি আইনে পরিণত করতে হবে জাতীয় সংসদে। এবার নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য বিএনপি সংসদে সরকারি দল হওয়ায় এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় সরকারের ভোট দলীয় প্রতীকে হবে কিনা।
এদিকে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করতে রোববার সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ইউনূস সরকারের এই উপদেষ্টাকে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। সেদিন ঢাকা উত্তর, কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনেরও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলা ও পৌরসভার জন্য ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল দলটি।
চব্বিশের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের গড়া সংগঠন এনসিপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যে (জোট) শরীক হয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ সব উপজেলায় ১১ দল মিলে একজন প্রার্থী বেছে নেওয়া কষ্টকর।”
এরপরও যদি জোটের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তাহলে সেটি সেসময় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সারজিস।
তিনি বলেন, “সারাদেশ থেকে এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের যারা পরিশ্রমী, গ্রহণযোগ্য, যারা মানুষের ওপর কখনো জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের পর্যায়ে অপরাধের সম্পৃক্ততা ছিল না; তারা অন্য যেকোন রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।”
সারজিস আলম বলেন, “সার্বিকভাবে যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে যদি কেউ আসতে চায়, তাদেরকেও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
স্থানীয় সরকারে কোন বিভাগে কত প্রার্থী
রংপুর বিভাগ - ১০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫ জন পৌর মেয়র; রাজশাহী বিভাগ - ৮ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫ জন পৌর মেয়র; সিলেট বিভাগ - ৮ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন পৌর মেয়র; ময়মনসিংহ বিভাগ - ৮ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৩ জন পৌর মেয়র; ঢাকা বিভাগ উত্তর - ৭ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৪ জন পৌর মেয়র; ঢাকা বিভাগ দক্ষিণ - ২ উপজেলা চেয়ারম্যান; ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগ- একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৪ পৌর মেয়র; খুলনা বিভাগ - ৬ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৭ জন পৌর মেয়র; বরিশাল বিভাগ - ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ১ জন পৌর মেয়র; কুমিল্লা বিভাগ - ৬ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ১ পৌর মেয়র; চট্টগ্রাম বিভাগ - ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৪ পৌর মেয়র।

আপনার মতামত লিখুন