জ্বালানি তেল এবং এলপি গ্যাসের পর এবার গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তে যাচ্ছে বিদ্যুতের দাম। আগামী জুন মাস থেকেই নতুন এই বর্ধিত দাম কার্যকর হতে পারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই গণশুনানি শেষ করে মে মাসের মধ্যেই বিদ্যুতের নতুন দাম চূড়ান্ত করা হবে।
সরকারি কোম্পানিগুলো বিদ্যুতের দাম এক লাফে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত
বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার (২০
ও ২১ মে) গণশুনানির ডাক দিয়েছে বিইআরসি।
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান,
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং এর অধীনস্থ সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো
পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গণশুনানির মাধ্যমে সব
পক্ষের মতামত নিয়ে দ্রুতই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি তথ্যমতে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি
টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। দাম বাড়ানো না হলে ২০২৬ সালে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩
হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। ফলে বাধ্য হয়েই সরকার দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারের
পাশাপাশি দেশেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও নিত্যপণ্য
পরিবহনে। একই কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বোতলজাত এলপিজি সিলিন্ডারের দামও। এমন পরিস্থিতিতে
বিদ্যুতের দাম বাড়লে নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালানো
আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক
না করেই বিল বাড়ানোর এই তোড়জোড় তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে।
দেশের প্রায় ৫ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে আগে যারা ২০০
ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন, তারা কম দামের (লাইফলাইন) সুবিধা পেতেন। তবে
নতুন প্রস্তাবে এই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল ৭৫ ইউনিট
পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা লাইফলাইন সুবিধা পাবেন (যা আগে ছিল ৫০ ইউনিট)। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত
ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদেরও এখন থেকে উচ্চ হারে বিল গুনতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি-র অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা)
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, "বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের জন্য নিঃসন্দেহে বড় চাপের
হবে। এটি কেবল বিদ্যুৎ বিল বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে
দ্রব্যমূল্য বাড়ার একটি প্রবণতা তৈরি করবে।" সরকারের পক্ষে পুরোপুরি ভর্তুকি দেওয়া
সম্ভব না হলেও তারা কতটা সমন্বয় করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা
থাকা দরকার বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
জ্বালানি তেল এবং এলপি গ্যাসের পর এবার গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তে যাচ্ছে বিদ্যুতের দাম। আগামী জুন মাস থেকেই নতুন এই বর্ধিত দাম কার্যকর হতে পারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই গণশুনানি শেষ করে মে মাসের মধ্যেই বিদ্যুতের নতুন দাম চূড়ান্ত করা হবে।
সরকারি কোম্পানিগুলো বিদ্যুতের দাম এক লাফে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত
বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার (২০
ও ২১ মে) গণশুনানির ডাক দিয়েছে বিইআরসি।
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান,
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং এর অধীনস্থ সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো
পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গণশুনানির মাধ্যমে সব
পক্ষের মতামত নিয়ে দ্রুতই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি তথ্যমতে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি
টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। দাম বাড়ানো না হলে ২০২৬ সালে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩
হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। ফলে বাধ্য হয়েই সরকার দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারের
পাশাপাশি দেশেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও নিত্যপণ্য
পরিবহনে। একই কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বোতলজাত এলপিজি সিলিন্ডারের দামও। এমন পরিস্থিতিতে
বিদ্যুতের দাম বাড়লে নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালানো
আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক
না করেই বিল বাড়ানোর এই তোড়জোড় তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে।
দেশের প্রায় ৫ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে আগে যারা ২০০
ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন, তারা কম দামের (লাইফলাইন) সুবিধা পেতেন। তবে
নতুন প্রস্তাবে এই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল ৭৫ ইউনিট
পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা লাইফলাইন সুবিধা পাবেন (যা আগে ছিল ৫০ ইউনিট)। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত
ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদেরও এখন থেকে উচ্চ হারে বিল গুনতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি-র অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা)
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, "বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের জন্য নিঃসন্দেহে বড় চাপের
হবে। এটি কেবল বিদ্যুৎ বিল বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে
দ্রব্যমূল্য বাড়ার একটি প্রবণতা তৈরি করবে।" সরকারের পক্ষে পুরোপুরি ভর্তুকি দেওয়া
সম্ভব না হলেও তারা কতটা সমন্বয় করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা
থাকা দরকার বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

আপনার মতামত লিখুন