আর মাত্র কয়েক দিন পরই ঈদুল আজহা। এই ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো নরসিংদীর পলাশ উপজেলাতেও কোরবানির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে এখন সরব হয়ে উঠেছে উপজেলার কামারশালাগুলো। কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে আর হাতুড়িপেটার ‘টুং টাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে এসব শিল্পালয়।
পলাশ উপজেলার ছোট-বড় ২৪টি বাজারসহ বিভিন্ন অলিগলিতে শতাধিক কামারশালা রয়েছে। প্রতিটি দোকানেই এখন কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া না লাগলেও পুরোনো আমলের নিয়মেই লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও হাসুয়া। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম শাণ দেওয়ার কাজেও ভিড় করছেন গ্রাহকরা।
ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ডাঙ্গা বাজারের কামার বিমল চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘২০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। কোরবানির ঈদ এলেই আমাদের কদর বাড়ে। এখন দম ফেলার সময় নেই, কাজ চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।’
তবে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। ঘোড়াশাল বাজারের কামার সহদেব জানান, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না। এছাড়া বাজারে এখন স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি বিদেশি সরঞ্জামের দাপট বেশি। তিনি বলেন, ‘হেল্পারের মজুরি অনেক বেড়েছে। সারাবছর কাজ কম থাকে, শুধু এই ঈদের সময়টুকুতেই যা একটু আয় হয়। দিনে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হলেও পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে।’
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে দেশি চাপাতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম পড়ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। এছাড়া আকারভেদে প্রতিটি বিদেশি চাপাতি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অনেক কারিগর আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সঠিক মূল্য না পেলে এবং বিনিয়োগকৃত পুঁজি না উঠলে ভবিষ্যতে এ পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
আর মাত্র কয়েক দিন পরই ঈদুল আজহা। এই ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো নরসিংদীর পলাশ উপজেলাতেও কোরবানির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে এখন সরব হয়ে উঠেছে উপজেলার কামারশালাগুলো। কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে আর হাতুড়িপেটার ‘টুং টাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে এসব শিল্পালয়।
পলাশ উপজেলার ছোট-বড় ২৪টি বাজারসহ বিভিন্ন অলিগলিতে শতাধিক কামারশালা রয়েছে। প্রতিটি দোকানেই এখন কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া না লাগলেও পুরোনো আমলের নিয়মেই লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও হাসুয়া। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম শাণ দেওয়ার কাজেও ভিড় করছেন গ্রাহকরা।
ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ডাঙ্গা বাজারের কামার বিমল চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘২০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। কোরবানির ঈদ এলেই আমাদের কদর বাড়ে। এখন দম ফেলার সময় নেই, কাজ চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।’
তবে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। ঘোড়াশাল বাজারের কামার সহদেব জানান, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না। এছাড়া বাজারে এখন স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি বিদেশি সরঞ্জামের দাপট বেশি। তিনি বলেন, ‘হেল্পারের মজুরি অনেক বেড়েছে। সারাবছর কাজ কম থাকে, শুধু এই ঈদের সময়টুকুতেই যা একটু আয় হয়। দিনে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হলেও পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে।’
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে দেশি চাপাতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম পড়ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। এছাড়া আকারভেদে প্রতিটি বিদেশি চাপাতি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অনেক কারিগর আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সঠিক মূল্য না পেলে এবং বিনিয়োগকৃত পুঁজি না উঠলে ভবিষ্যতে এ পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

আপনার মতামত লিখুন