বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম দৈনিক সংবাদ। সম্প্রতি ৭৬ বছরে পা রাখে পত্রিকাটি।
দেশের প্রাচীন পত্রিকাটির দীর্ঘ এ পথচলা সহজ ছিলো না। বারবার সহ্য একে করতে হয়েছে নানান বাধা-বিপত্তি। স্বাধীনতা পক্ষে থাকায় বারবার পড়তে হয়েছে টার্গেটে।
২৫ শে মার্চ কাল রাতে পোড়ানো হলো ‘সংবাদ’ এর অফিস
সাল ১৯৭১! অবশেষে টার্গেট পূরণে সফল হলো শত্রুপক্ষ। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলা থেকে রক্ষা পেলো না ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রটি।
পুরান ঢাকায় অবস্থিত দৈনিক সংবাদ অফিস ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য। রাতের আঁধারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ভবনটিতে। মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় মূল্যবান নথিপত্র, সংবাদ আর্কাইভ ও ছাপাখানার যন্ত্রপাতি।
স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার “অপরাধেই” সংবাদকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল সেইরাতে। বাংলাদেশের প্রাচীন এই পত্রিকাটি টার্গেটে ছিলো বরাবরই। এর পেছনে ইতিহাসও কম নয়।
বারবার টার্গেটের কারণ
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক সংবাদ ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক। শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি মানুষ ও বাঙালির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পক্ষে সাহসী অবস্থানের কারণে এটি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে। এতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চোখে পত্রিকাটি হয়ে ওঠে “বিপজ্জনক”।
ইতিহাসের স্বাক্ষী
ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা ও গণঅভ্যুত্থান সব আন্দোলনেই সংবাদ স্পষ্টভাবে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। স্বাধীনতার সকল ইতিহাসেই এর অবদান ছিলো ওতপ্রোতভাবে।
শেষ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে আদর্শ নিয়ে
পত্রিকাটি সেই রাতে আগুনে পুড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে এর ইতিহাস-ঐতিহ্য। অফিস পোড়ানোর পরেও, থেমে যায়নি এর চেতনা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা।
সেই কালরাতে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একটি সংবাদপত্রের ভবন, কিন্তু ধ্বংস করা যায়নি তার আদর্শ। সেই ধারাবাহিকতায় আজও বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে প্রতিরোধ, সাহস ও সত্য প্রকাশের প্রতীক হয়ে আছে।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম দৈনিক সংবাদ। সম্প্রতি ৭৬ বছরে পা রাখে পত্রিকাটি।
দেশের প্রাচীন পত্রিকাটির দীর্ঘ এ পথচলা সহজ ছিলো না। বারবার সহ্য একে করতে হয়েছে নানান বাধা-বিপত্তি। স্বাধীনতা পক্ষে থাকায় বারবার পড়তে হয়েছে টার্গেটে।
২৫ শে মার্চ কাল রাতে পোড়ানো হলো ‘সংবাদ’ এর অফিস
সাল ১৯৭১! অবশেষে টার্গেট পূরণে সফল হলো শত্রুপক্ষ। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলা থেকে রক্ষা পেলো না ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রটি।
পুরান ঢাকায় অবস্থিত দৈনিক সংবাদ অফিস ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য। রাতের আঁধারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ভবনটিতে। মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় মূল্যবান নথিপত্র, সংবাদ আর্কাইভ ও ছাপাখানার যন্ত্রপাতি।
স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার “অপরাধেই” সংবাদকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল সেইরাতে। বাংলাদেশের প্রাচীন এই পত্রিকাটি টার্গেটে ছিলো বরাবরই। এর পেছনে ইতিহাসও কম নয়।
বারবার টার্গেটের কারণ
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক সংবাদ ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক। শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি মানুষ ও বাঙালির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পক্ষে সাহসী অবস্থানের কারণে এটি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে। এতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চোখে পত্রিকাটি হয়ে ওঠে “বিপজ্জনক”।
ইতিহাসের স্বাক্ষী
ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা ও গণঅভ্যুত্থান সব আন্দোলনেই সংবাদ স্পষ্টভাবে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। স্বাধীনতার সকল ইতিহাসেই এর অবদান ছিলো ওতপ্রোতভাবে।
শেষ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে আদর্শ নিয়ে
পত্রিকাটি সেই রাতে আগুনে পুড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে এর ইতিহাস-ঐতিহ্য। অফিস পোড়ানোর পরেও, থেমে যায়নি এর চেতনা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা।
সেই কালরাতে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একটি সংবাদপত্রের ভবন, কিন্তু ধ্বংস করা যায়নি তার আদর্শ। সেই ধারাবাহিকতায় আজও বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে প্রতিরোধ, সাহস ও সত্য প্রকাশের প্রতীক হয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন