সংবাদ

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় শ্রীমঙ্গল


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গলের সবুজ চা-বাগানে নীল আকাশের মিতালি। ছবি : সংবাদ

পাহাড়ের বুকজুড়ে সবুজ চা-বাগান, কুয়াশা ছোঁয়া বনভূমি আর হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি; প্রকৃতির এমন রূপ নিয়ে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। আসন্ন ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ খ্যাত এই জনপদকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটবে। এরই মধ্যে এখানকার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোর অধিকাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো সারা বছরই পর্যটকদের টানে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বাইক্কা বিল, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও চা জাদুঘর পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এ ছাড়া ধলই চা-বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, কমলা বাগান, আগর বাগান, মূরইছড়া ইকোপার্ক ও শংকর টিলা লেকের মতো স্থানগুলোও ঈদের ছুটিতে মুখর হয়ে উঠবে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের মাধ্যমে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খাঁন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগ্রহ বেশ আশাব্যঞ্জক। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি এবং শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের পক্ষ থেকে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন মাঠে থাকবে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল ভবিষ্যতে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিতি পাবে। সবুজের শান্ত সৌন্দর্য আর চায়ের সুবাসে ঘেরা এই জনপদ আবারও মেতে উঠবে প্রাণের উচ্ছ্বাসে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় শ্রীমঙ্গল

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

পাহাড়ের বুকজুড়ে সবুজ চা-বাগান, কুয়াশা ছোঁয়া বনভূমি আর হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি; প্রকৃতির এমন রূপ নিয়ে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। আসন্ন ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ খ্যাত এই জনপদকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটবে। এরই মধ্যে এখানকার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোর অধিকাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো সারা বছরই পর্যটকদের টানে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বাইক্কা বিল, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও চা জাদুঘর পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এ ছাড়া ধলই চা-বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, কমলা বাগান, আগর বাগান, মূরইছড়া ইকোপার্ক ও শংকর টিলা লেকের মতো স্থানগুলোও ঈদের ছুটিতে মুখর হয়ে উঠবে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের মাধ্যমে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খাঁন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগ্রহ বেশ আশাব্যঞ্জক। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি এবং শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের পক্ষ থেকে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন মাঠে থাকবে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল ভবিষ্যতে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিতি পাবে। সবুজের শান্ত সৌন্দর্য আর চায়ের সুবাসে ঘেরা এই জনপদ আবারও মেতে উঠবে প্রাণের উচ্ছ্বাসে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত