সংবাদ

সাটুরিয়ায় জন্ম নিবন্ধনে ভুলের হিড়িক


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

সাটুরিয়ায় জন্ম নিবন্ধনে ভুলের হিড়িক
ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটী ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন সনদে তথ্যের চরম ভুল ও খামখেয়ালিপনার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নথিতে জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখানো, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মস্থান ওলটপালটসহ নানা অসংগতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টারের একটি পাতার ১০ জনের তথ্যের মধ্যেই অসংগতি রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, রূপবানের বাবার নাম ইয়াসিন ও গ্রাম ভাসিয়ালী কান্দাপাড়া হলেও নথিতে লেখা হয়েছে বাবা জয়নুদ্দিন ও গ্রাম গাছনগর। একইভাবে আফরোজা আক্তার ও মৌসুমী আক্তারের বাবার নাম আজাহার উদ্দিন ও গ্রাম ভাসিয়ালী কান্দাপাড়া হলেও রেজিস্টারে লেখা হয়েছে ভিন্ন নাম ও গ্রাম। কেবল নিজের নাম ছাড়া প্রায় সব তথ্যই ভুলভাবে নথিবদ্ধ হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বলেন, ‘পরিষদে জন্ম নিবন্ধন আনতে গিয়ে দেখি মা ও বোনদের তথ্যে ভয়াবহ ভুল। এমন সব নাম লেখা হয়েছে যা আমরা আগে শুনিনি। এমনকি অনেক জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে লিখে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এই খামখেয়ালিপনার বিচার হওয়া উচিত।’

ফুকুরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা রুবেল জানান, এই জন্ম নিবন্ধন বইটি প্রথমত ২০০৭ সালে তৈরি হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে যখন এসব তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন দায়িত্বরত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সে সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষা সনদের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য এন্ট্রি দিলে আজ হাজার হাজার মানুষকে হয়রানি হতে হতো না।

এ বিষয়ে ফুকুরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভুলগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও মানুষ এখন আমাকে গালি দিচ্ছে। ২০০৭ সালের ভুলের দায় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। বর্তমান উদ্যোক্তারা নিরলসভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সার্ভার সমস্যা ও ওটিপি জটিলতাসহ নানা কারিগরি কারণে সংশোধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সরকার যদি নীতিমালা আরও সহজ করে, তবেই এই ভোগান্তি কমবে।’

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খামখেয়ালিপনার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে ফুকুরহাটী ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় এই ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


সাটুরিয়ায় জন্ম নিবন্ধনে ভুলের হিড়িক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটী ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন সনদে তথ্যের চরম ভুল ও খামখেয়ালিপনার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নথিতে জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখানো, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মস্থান ওলটপালটসহ নানা অসংগতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টারের একটি পাতার ১০ জনের তথ্যের মধ্যেই অসংগতি রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, রূপবানের বাবার নাম ইয়াসিন ও গ্রাম ভাসিয়ালী কান্দাপাড়া হলেও নথিতে লেখা হয়েছে বাবা জয়নুদ্দিন ও গ্রাম গাছনগর। একইভাবে আফরোজা আক্তার ও মৌসুমী আক্তারের বাবার নাম আজাহার উদ্দিন ও গ্রাম ভাসিয়ালী কান্দাপাড়া হলেও রেজিস্টারে লেখা হয়েছে ভিন্ন নাম ও গ্রাম। কেবল নিজের নাম ছাড়া প্রায় সব তথ্যই ভুলভাবে নথিবদ্ধ হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বলেন, ‘পরিষদে জন্ম নিবন্ধন আনতে গিয়ে দেখি মা ও বোনদের তথ্যে ভয়াবহ ভুল। এমন সব নাম লেখা হয়েছে যা আমরা আগে শুনিনি। এমনকি অনেক জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে লিখে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এই খামখেয়ালিপনার বিচার হওয়া উচিত।’

ফুকুরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা রুবেল জানান, এই জন্ম নিবন্ধন বইটি প্রথমত ২০০৭ সালে তৈরি হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে যখন এসব তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন দায়িত্বরত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সে সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষা সনদের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য এন্ট্রি দিলে আজ হাজার হাজার মানুষকে হয়রানি হতে হতো না।

এ বিষয়ে ফুকুরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভুলগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও মানুষ এখন আমাকে গালি দিচ্ছে। ২০০৭ সালের ভুলের দায় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। বর্তমান উদ্যোক্তারা নিরলসভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সার্ভার সমস্যা ও ওটিপি জটিলতাসহ নানা কারিগরি কারণে সংশোধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সরকার যদি নীতিমালা আরও সহজ করে, তবেই এই ভোগান্তি কমবে।’

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খামখেয়ালিপনার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে ফুকুরহাটী ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় এই ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত