বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এক তপ্ত ১১ জ্যৈষ্ঠ। পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামের ধূলিময় পথ মাড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল এক শিশু। দুঃখ-দারিদ্র্য যার শৈশবের নিত্যসঙ্গী, ডাকনাম রাখা হয়েছিল ‘দুখু মিয়া’। কে জানত, সেই অতি সাধারণ মক্তবের শিক্ষক, মাজারে খাদেম আর লেটো দলের ছোকরাটিই একদিন হয়ে উঠবেন বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী এক ‘ধূমকেতু’!
আজ ২৫ মে,
শোষিত মানুষের মুক্তির দূত, সাম্য ও প্রেমের কালজয়ী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম
জন্মবার্ষিকী। বিশ্বমানবতার ওপর নিপীড়ন ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে যিনি আজীবন
অগ্নিকণ্ঠে সোচ্চার ছিলেন, সেই প্রিয় কবিকে আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে পুরো
বাংলাদেশ।
শৈশবেই
পিতৃহারা হয়ে জীবনযুদ্ধের দুর্লংঘ্য পর্বত পাড়ি দিতে হয়েছিল নজরুলকে। কিন্তু কোনো
বাধাই তার ভেতরের দ্রোহকে চেপে রাখতে পারেনি। হঠাৎ করেই যেন বাংলার সাহিত্যাকাশে
দোর্দণ্ড প্রতাপে তার আত্মপ্রকাশ। কবির এই জাদুকরী অভ্যুদয় দেখে মুগ্ধ কবিগুরু
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/আঁধারে
বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’ ‘বিদ্রোহী’
কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে চিরদিনের জন্য তিনি হয়ে
গেলেন আমাদের ‘বিদ্রোহী কবি’। প্রায় তিন হাজার গান ও অনন্য সুরের মূর্ছনায় তিনি
সমৃদ্ধ করেছেন বাঙালির মনন, যা আজ ‘নজরুলগীতি’ নামে আমাদের হৃদয়ে স্পন্দিত হয়।
জীবনের
মধ্যগগনে এসে এক নিষ্ঠুর ব্যাধি কবির কণ্ঠ কেড়ে নেয়, হারিয়ে ফেলেন মানসিক
ভারসাম্য। কিন্তু বাংলাদেশ এই মহানায়ককে ভোলেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে
পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা এই কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। দেওয়া হয় দেশের
নাগরিকত্ব এবং ঘোষণা করা হয় ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট
মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই বাংলার মাটিই ছিল তার পরম আশ্রয়।
কবির
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, “মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে জাতীয় কবি কাজী
নজরুল ইসলাম আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন,
সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে
প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“তাঁর সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য আছে সকল কালের সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের
বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও
প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।”
জাতীয় কবির
১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও
কুমিল্লায় আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সামাজিক-সংষ্কৃতিক
সংগঠন গানে, কবিতায় আর আলোচনায় স্মরণ করছে এই মহান পুরুষকে। যিনি শিখিয়েছেন মাথা
নোয়াবার নয়, যিনি শিখিয়েছেন ভালোবাসার সাম্য।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এক তপ্ত ১১ জ্যৈষ্ঠ। পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামের ধূলিময় পথ মাড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল এক শিশু। দুঃখ-দারিদ্র্য যার শৈশবের নিত্যসঙ্গী, ডাকনাম রাখা হয়েছিল ‘দুখু মিয়া’। কে জানত, সেই অতি সাধারণ মক্তবের শিক্ষক, মাজারে খাদেম আর লেটো দলের ছোকরাটিই একদিন হয়ে উঠবেন বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী এক ‘ধূমকেতু’!
আজ ২৫ মে,
শোষিত মানুষের মুক্তির দূত, সাম্য ও প্রেমের কালজয়ী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম
জন্মবার্ষিকী। বিশ্বমানবতার ওপর নিপীড়ন ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে যিনি আজীবন
অগ্নিকণ্ঠে সোচ্চার ছিলেন, সেই প্রিয় কবিকে আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে পুরো
বাংলাদেশ।
শৈশবেই
পিতৃহারা হয়ে জীবনযুদ্ধের দুর্লংঘ্য পর্বত পাড়ি দিতে হয়েছিল নজরুলকে। কিন্তু কোনো
বাধাই তার ভেতরের দ্রোহকে চেপে রাখতে পারেনি। হঠাৎ করেই যেন বাংলার সাহিত্যাকাশে
দোর্দণ্ড প্রতাপে তার আত্মপ্রকাশ। কবির এই জাদুকরী অভ্যুদয় দেখে মুগ্ধ কবিগুরু
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/আঁধারে
বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’ ‘বিদ্রোহী’
কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে চিরদিনের জন্য তিনি হয়ে
গেলেন আমাদের ‘বিদ্রোহী কবি’। প্রায় তিন হাজার গান ও অনন্য সুরের মূর্ছনায় তিনি
সমৃদ্ধ করেছেন বাঙালির মনন, যা আজ ‘নজরুলগীতি’ নামে আমাদের হৃদয়ে স্পন্দিত হয়।
জীবনের
মধ্যগগনে এসে এক নিষ্ঠুর ব্যাধি কবির কণ্ঠ কেড়ে নেয়, হারিয়ে ফেলেন মানসিক
ভারসাম্য। কিন্তু বাংলাদেশ এই মহানায়ককে ভোলেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে
পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা এই কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। দেওয়া হয় দেশের
নাগরিকত্ব এবং ঘোষণা করা হয় ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট
মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই বাংলার মাটিই ছিল তার পরম আশ্রয়।
কবির
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, “মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে জাতীয় কবি কাজী
নজরুল ইসলাম আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন,
সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে
প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“তাঁর সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য আছে সকল কালের সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের
বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও
প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।”
জাতীয় কবির
১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও
কুমিল্লায় আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সামাজিক-সংষ্কৃতিক
সংগঠন গানে, কবিতায় আর আলোচনায় স্মরণ করছে এই মহান পুরুষকে। যিনি শিখিয়েছেন মাথা
নোয়াবার নয়, যিনি শিখিয়েছেন ভালোবাসার সাম্য।

আপনার মতামত লিখুন