সংবাদ

দেশের ৬০ শতাংশ মানুষেরই নেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, খুলনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, খুলনা
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

দেশের ৬০ শতাংশ মানুষেরই নেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ
খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার তথ্য তুলে ধরছেন অধ্যাপক বঙ্গ কমল বসু। ছবিঃ সংবাদ

বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন নীতিমালা থাকলেও বাস্তব প্রস্তুতি এবং তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গণদগ্ধ (ম্যাস বার্ন) ও বহুমাত্রিক আঘাতজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে খুলনার সিএমএন অ্যান্ড বসু হেলথ রিসার্চ সেন্টার এই গবেষণা পরিচালনা করে। রোববার (২৪ মে) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিএমএন অ্যান্ড বসু হেলথ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান গবেষক অধ্যাপক বঙ্গ কমল বসু। তিনি জানান, ঢাকা ও খুলনা সিটি করপোরেশনসহ মোংলা, সাভার এবং আশুলিয়ার মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল থেকে এই গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক চিকিৎসা (ফার্স্ট এইড) প্রশিক্ষণ নেননি। এ ছাড়া ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ দগ্ধ রোগী পরিবহনের সময় রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একেবারেই অবগত নন।

উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, মানুষের মধ্যে এখনো পুড়ে যাওয়া স্থানে টুথপেস্ট, তেল বা বরফ লাগানোর মতো ক্ষতিকর প্রথাগত অপচিকিৎসার ধারণা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে শ্বাসনালি দগ্ধতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক করণীয় জানেন না বেশির ভাগ মানুষ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গাইডলাইন অনুযায়ী রোগী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অধিকাংশ উত্তরদাতার ধারণা সীমিত, যা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অধ্যাপক বঙ্গ কমল বসু বলেন, কাগজে-কলমে প্রস্তুতি থাকলেও সাধারণ মানুষের কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও প্রচারের অভাবে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি হটলাইন নম্বর ‘১০২’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কমিউনিটি পর্যায়ের সামাজিক সক্ষমতার অভাব। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিশেষায়িত বার্ন ও ট্রমা সেবার তীব্র সংকটকে নির্দেশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্বের কারণে রোগী স্থানান্তর ও দ্রুত চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গবেষকেরা 'কমপ্রিহেনসিভ বার্ন-পলিট্রমা ডিজেস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রেসপন্স' (সিবিপিডিপিইআর) মডেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর সুপারিশ করেন।

গবেষকদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল ও হাসপাতালের সক্ষমতা চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরি করা, সড়কে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য ‘গ্রিন করিডর’ করা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি গঠন, হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট শক্তিশালী করা, স্ট্যান্ডার্ড ট্রায়াজ সিস্টেম চালুকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পাঞ্চলে নিয়মিত ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও অগ্নি মহড়া বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


দেশের ৬০ শতাংশ মানুষেরই নেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন নীতিমালা থাকলেও বাস্তব প্রস্তুতি এবং তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গণদগ্ধ (ম্যাস বার্ন) ও বহুমাত্রিক আঘাতজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে খুলনার সিএমএন অ্যান্ড বসু হেলথ রিসার্চ সেন্টার এই গবেষণা পরিচালনা করে। রোববার (২৪ মে) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিএমএন অ্যান্ড বসু হেলথ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান গবেষক অধ্যাপক বঙ্গ কমল বসু। তিনি জানান, ঢাকা ও খুলনা সিটি করপোরেশনসহ মোংলা, সাভার এবং আশুলিয়ার মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল থেকে এই গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক চিকিৎসা (ফার্স্ট এইড) প্রশিক্ষণ নেননি। এ ছাড়া ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ দগ্ধ রোগী পরিবহনের সময় রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একেবারেই অবগত নন।

উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, মানুষের মধ্যে এখনো পুড়ে যাওয়া স্থানে টুথপেস্ট, তেল বা বরফ লাগানোর মতো ক্ষতিকর প্রথাগত অপচিকিৎসার ধারণা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে শ্বাসনালি দগ্ধতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক করণীয় জানেন না বেশির ভাগ মানুষ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গাইডলাইন অনুযায়ী রোগী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অধিকাংশ উত্তরদাতার ধারণা সীমিত, যা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অধ্যাপক বঙ্গ কমল বসু বলেন, কাগজে-কলমে প্রস্তুতি থাকলেও সাধারণ মানুষের কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও প্রচারের অভাবে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি হটলাইন নম্বর ‘১০২’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কমিউনিটি পর্যায়ের সামাজিক সক্ষমতার অভাব। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিশেষায়িত বার্ন ও ট্রমা সেবার তীব্র সংকটকে নির্দেশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্বের কারণে রোগী স্থানান্তর ও দ্রুত চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গবেষকেরা 'কমপ্রিহেনসিভ বার্ন-পলিট্রমা ডিজেস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রেসপন্স' (সিবিপিডিপিইআর) মডেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর সুপারিশ করেন।

গবেষকদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল ও হাসপাতালের সক্ষমতা চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরি করা, সড়কে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য ‘গ্রিন করিডর’ করা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি গঠন, হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট শক্তিশালী করা, স্ট্যান্ডার্ড ট্রায়াজ সিস্টেম চালুকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পাঞ্চলে নিয়মিত ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও অগ্নি মহড়া বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত