সংবাদ

সেতু আছে রাস্তা নেই, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

সেতু আছে রাস্তা নেই, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
সংযোগ সড়ক ছাড়াই ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ১০ কোটি টাকার সেতু। ছবিঃ সংবাদ

নরসিংদীর মনোহরদী ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ তিন বছর আগে শেষ হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে তিন বছর ধরে সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে আছে, আর চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন দুই পাড়ের লাখো মানুষ। সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় লোকজনের মনে এখন একটাই প্রশ্ন,‘কার স্বার্থে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মিত হয়েছে?’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর ও কাপাসিয়া উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুটি এখন পর্যন্ত জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু থাকলেও নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছায়।

সিংগুয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা বলেন, “এই সেতুটি মনোহরদী ও কাপাসিয়ার মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওপার থেকে আমাদের স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে আসে। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো সবাইকে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে।”

আশাদনগর গ্রামের মো. জালাল উদ্দিন (৬০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বয়স হয়ে গেছে, সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী?”

জানা গেছে, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো সম্পন্ন করা যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, “নানা জটিলতার কারণে তিন বছরেও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় নতুন করে নকশা ও সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


সেতু আছে রাস্তা নেই, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর মনোহরদী ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ তিন বছর আগে শেষ হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে তিন বছর ধরে সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে আছে, আর চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন দুই পাড়ের লাখো মানুষ। সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় লোকজনের মনে এখন একটাই প্রশ্ন,‘কার স্বার্থে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মিত হয়েছে?’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর ও কাপাসিয়া উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুটি এখন পর্যন্ত জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু থাকলেও নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছায়।

সিংগুয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা বলেন, “এই সেতুটি মনোহরদী ও কাপাসিয়ার মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওপার থেকে আমাদের স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে আসে। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো সবাইকে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে।”

আশাদনগর গ্রামের মো. জালাল উদ্দিন (৬০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বয়স হয়ে গেছে, সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী?”

জানা গেছে, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো সম্পন্ন করা যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, “নানা জটিলতার কারণে তিন বছরেও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় নতুন করে নকশা ও সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত