সংবাদ

জ্বালানির দামে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

জ্বালানির দামে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে
দেশে জ্বালানির দামে লাগাতার ঊর্ধ্বগতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে

গত দশ দিনের মধ্যে চারবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি এ নিয়ে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে ‘মেহেঙ্গাই মানব’(যিনি মূল্যবৃদ্ধির প্রতীক) বলে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন- এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে পরিকল্পিত আঘাত। সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে রাহুল লেখেন, “মোদী সরকার কিস্তিতে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে নিশ্চিত করছে যাতে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক চাপে ভেঙে পড়ে।”

তার দাবি, নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি আটকে রেখে ভোট শেষ হতেই এক ধাক্কায় প্রায় ৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, যা একপ্রকার ‘নীরব আর্থিক শোষণ’। লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও সতর্ক করে বলেন, দেশের সামনে বড় অর্থনৈতিক সঙ্কট আসন্ন, কিন্তু সরকার সেই বাস্তবতা থেকে চোখ সরিয়ে শুধুমাত্র নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিল।

১৫ মে থেকে জ্বালানির দাম পুনর্বিবেচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি চলছে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং পরিবহন খরচ বেড়ে দৈনন্দিন পণ্যের দামে প্রভাব পড়তে পারে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা- ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলেম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড। সংস্থাগুলির মতে, দীর্ঘদিন ধরে খুচরা দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় এখন ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় নেই।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি অস্থির। ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইজরায়েল উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট স্ট্রেইট অফ হড়মুজ-এ বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তার সঙ্গে টাকার দুর্বলতা, আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং রিফাইনিং মার্জিন কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে বলে দাবি তেল সংস্থাগুলির।

তবে সরকারের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও এতদিন সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই দাম বাড়ানো হয়নি, যদিও বিরোধীদের অভিযোগ- নির্বাচনের পর সেই বোঝা একসঙ্গে চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। সব মিলিয়ে, জ্বালানির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


জ্বালানির দামে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

গত দশ দিনের মধ্যে চারবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি এ নিয়ে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে ‘মেহেঙ্গাই মানব’(যিনি মূল্যবৃদ্ধির প্রতীক) বলে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন- এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে পরিকল্পিত আঘাত। সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে রাহুল লেখেন, “মোদী সরকার কিস্তিতে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে নিশ্চিত করছে যাতে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক চাপে ভেঙে পড়ে।”

তার দাবি, নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি আটকে রেখে ভোট শেষ হতেই এক ধাক্কায় প্রায় ৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, যা একপ্রকার ‘নীরব আর্থিক শোষণ’। লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও সতর্ক করে বলেন, দেশের সামনে বড় অর্থনৈতিক সঙ্কট আসন্ন, কিন্তু সরকার সেই বাস্তবতা থেকে চোখ সরিয়ে শুধুমাত্র নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিল।

১৫ মে থেকে জ্বালানির দাম পুনর্বিবেচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি চলছে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং পরিবহন খরচ বেড়ে দৈনন্দিন পণ্যের দামে প্রভাব পড়তে পারে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা- ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলেম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড। সংস্থাগুলির মতে, দীর্ঘদিন ধরে খুচরা দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় এখন ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় নেই।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি অস্থির। ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইজরায়েল উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট স্ট্রেইট অফ হড়মুজ-এ বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তার সঙ্গে টাকার দুর্বলতা, আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং রিফাইনিং মার্জিন কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে বলে দাবি তেল সংস্থাগুলির।

তবে সরকারের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও এতদিন সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই দাম বাড়ানো হয়নি, যদিও বিরোধীদের অভিযোগ- নির্বাচনের পর সেই বোঝা একসঙ্গে চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। সব মিলিয়ে, জ্বালানির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত