সংবাদ

বৃষ্টির সঙ্গে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার যানজট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

বৃষ্টির সঙ্গে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার যানজট

পবিত্র ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঝুম বৃষ্টি আর যমুনা সেতুতে একের পর এক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) ভোররাত থেকেই মহাসড়কের যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা এবং নাটিয়াপাড়া থেকে গোড়াই পর্যন্ত এই বিশাল যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।
​হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজট ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এবং বুধবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত দুই দফায় একমুখী করে যানবাহন চালানো হয়। এর ওপর আবার রাত ১২টার পর থেকে সেতুর ওপর অন্তত ৫টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।
ফলে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে দেলদুয়ারের নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এবং ঘারিন্দা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন একেবারেই স্থবির হয়ে পড়ে।
​মহাসড়কের পৌলি এলাকায় আটকে থাকা পাবনাগামী যাত্রী আফাজ মিয়া তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চন্দ্রা থেকেই যানবাহন ধীরগতিতে চলছিল। এরপর টাঙ্গাইল এসে তো পুরো যানজট। যে পথ পার হতে দেড় ঘণ্টা লাগার কথা, সেখানে আসতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা।"
নাটোরগামী নারী যাত্রী খোদেজা বেগম নিজের চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, "আমি নাটোর যাবো। ঢাকার মৌচাক থেকেই গাড়ির গতি ছিল কম। টাঙ্গাইলের ঘারিন্দার পর থেকে পুরো জটলা লেগে আছে। ৯ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো টাঙ্গাইল জেলাই পার হতে পারলাম না।"
​পরিস্থিতি নিয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "টানা বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর একসঙ্গে কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই এই জটলা তৈরি হয়েছে। তবে আশা করছি, বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।"
অন্যদিকে পুরো মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা নিয়ে টাঙ্গাইলের মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, "ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের পুরো সড়কেই এখন যানবাহনের তীব্র চাপ রয়েছে। সকালের বৃষ্টির কারণে গাড়িগুলো কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চলাচল স্বাভাবিক হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


বৃষ্টির সঙ্গে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার যানজট

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঝুম বৃষ্টি আর যমুনা সেতুতে একের পর এক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) ভোররাত থেকেই মহাসড়কের যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা এবং নাটিয়াপাড়া থেকে গোড়াই পর্যন্ত এই বিশাল যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।
​হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজট ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এবং বুধবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত দুই দফায় একমুখী করে যানবাহন চালানো হয়। এর ওপর আবার রাত ১২টার পর থেকে সেতুর ওপর অন্তত ৫টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।
ফলে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে দেলদুয়ারের নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এবং ঘারিন্দা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন একেবারেই স্থবির হয়ে পড়ে।
​মহাসড়কের পৌলি এলাকায় আটকে থাকা পাবনাগামী যাত্রী আফাজ মিয়া তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চন্দ্রা থেকেই যানবাহন ধীরগতিতে চলছিল। এরপর টাঙ্গাইল এসে তো পুরো যানজট। যে পথ পার হতে দেড় ঘণ্টা লাগার কথা, সেখানে আসতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা।"
নাটোরগামী নারী যাত্রী খোদেজা বেগম নিজের চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, "আমি নাটোর যাবো। ঢাকার মৌচাক থেকেই গাড়ির গতি ছিল কম। টাঙ্গাইলের ঘারিন্দার পর থেকে পুরো জটলা লেগে আছে। ৯ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো টাঙ্গাইল জেলাই পার হতে পারলাম না।"
​পরিস্থিতি নিয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "টানা বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর একসঙ্গে কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই এই জটলা তৈরি হয়েছে। তবে আশা করছি, বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।"
অন্যদিকে পুরো মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা নিয়ে টাঙ্গাইলের মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, "ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের পুরো সড়কেই এখন যানবাহনের তীব্র চাপ রয়েছে। সকালের বৃষ্টির কারণে গাড়িগুলো কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চলাচল স্বাভাবিক হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত