কিলিয়ান এমবাপ্পে কি পারবেন আবার ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে? ২০১৮ সালে তিনি ছিলেন উঠতি তারকা। যদিও ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ছিল এমবাপ্পের। আট গোল করে জিতেছিলেন গোন্ডেন বুট। কিন্তু ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সেই ধাক্কা ভুলে এ বার নামতে চাইবে ফ্রান্স। এবার দিদিয়ের দেশ্যম দলে প্রধান ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্স দলের শক্তি ও দুর্বলতা খতিয়ে দেখলো আনন্দবাজার ডট কম।
শক্তি: ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি
তাদের বিকল্প। ২৬ জনের দল থেকে অনায়াসে দু’টি দল বানিয়ে ফেলা যায়। বিশ্ব জুড়ে বেশির
ভাগ বড় ক্লাবে খেলেন ফ্রান্সের ফুটবলারেরা। তাদের মধ্যে থেকে সেরা ২৬ জনকে বেছে নিয়েছেন
দেশ্যম।
গতিময় ফুটবল- ফ্রান্সের তিন ফুটবলার
এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গতি দেখার মতো। উইং ধরে যে গতিতে তারা আক্রমণ
করতে পারেন, তা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের সমস্যায় ফেলে দেবে। এই গতিতেও সৃজনশীল ফুটবল
খেলার ক্ষমতা রাখে ফ্রান্স।
জমাট রক্ষণ- ফ্রান্সের দুই সেন্টার
ব্যাক উইলিয়াম স্যালিবা ও ডায়োট উপামেকানোকে বিশ্বের অন্যতম দুই সেরা ডিফেন্ডার ধরা
হয়। দু’জনেই ফর্মে রয়েছেন। গোলে মাইক মাইগনানও ফর্মে। ফলে এই রক্ষণ ভেঙে যে কোনো দলের
পক্ষে গোল করা কঠিন।
দুর্বলতা: তারকা নির্ভরতা বেশি
দলে বিকল্প থাকলেও ফ্রান্সের এই দল মূলত তারকাদের উপরেই বেশি নির্ভর করে। এমবাপ্পে,
দেম্বেলেদের দিন খারাপ গেলে সমস্যায় পড়তে পারে তারা। সেট পিসে সমস্যা-রক্ষণ জমাট থাকলেও
সেট পিসে সমস্যায় পড়ে ফ্রান্স। এ বারের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে তা দেখা গিয়েছে।
কর্নার বা ফ্রি কিক থেকে গোল খেয়েছে তারা। ফ্রান্সের এই দুর্বলতা প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে
পারে।
সম্ভাবনা: নতুনদের তারকা হওয়ার
মঞ্চ- ওয়ারেন জাইরে এমেরি, ডেজিরে ডুয়ের মতো ফুটবলার ক্লাব ফুটবলে নজর কেড়েছেন। এ বার
তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, কান্তেদের ভিড়ের মধ্যে তারকা হয়ে ওঠার সুযোগ
থাকবে তাদের। সহজ গ্রুপ- অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছে ফ্রান্স। বাকি তিন দল সেনেগাল,
ইরাক ও নরওয়ে। ফলে এই গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়া অনেকটাই সহজ।
শঙ্কা: ২০২৪ সালের ইউরো কাপ ও
২০২৫ সালের নেশন্স লীগের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। এ বার বিশ্বকাপেও
নক আউটে দু’দল মুখোমুখি হতে পারে। স্পেনের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড চাপে রাখবে
ফ্রান্সকে। প্রত্যাশার চাপ- যে দল যত ভালো, সেই দলের উপর প্রত্যাশার চাপ তত বেশি। গত
দু’বারের মধ্যে এক বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এক বার হয়েছে রানার্স। ফলে এবারও তাদের
দিকে সবার নজর থাকবে। এই চাপ দলকে সমস্যায় ফেলতে পারে। শারীরিক ধকল- ফ্রান্সের বেশির
ভাগ ফুটবলার ঘরোয়া ফুটবলে বড় দলে খেলেন। সারা বছর খেলতে হয় তাদের। ফলে ধকল থাকে। সেই
ধকল সামলে বিশ্বকাপে খেলতে হবে তাদের। শারীরিক ধকল এমবাপ্পেদের সমস্যায় ফেলতে পারে।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
কিলিয়ান এমবাপ্পে কি পারবেন আবার ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে? ২০১৮ সালে তিনি ছিলেন উঠতি তারকা। যদিও ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ছিল এমবাপ্পের। আট গোল করে জিতেছিলেন গোন্ডেন বুট। কিন্তু ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সেই ধাক্কা ভুলে এ বার নামতে চাইবে ফ্রান্স। এবার দিদিয়ের দেশ্যম দলে প্রধান ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্স দলের শক্তি ও দুর্বলতা খতিয়ে দেখলো আনন্দবাজার ডট কম।
শক্তি: ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি
তাদের বিকল্প। ২৬ জনের দল থেকে অনায়াসে দু’টি দল বানিয়ে ফেলা যায়। বিশ্ব জুড়ে বেশির
ভাগ বড় ক্লাবে খেলেন ফ্রান্সের ফুটবলারেরা। তাদের মধ্যে থেকে সেরা ২৬ জনকে বেছে নিয়েছেন
দেশ্যম।
গতিময় ফুটবল- ফ্রান্সের তিন ফুটবলার
এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গতি দেখার মতো। উইং ধরে যে গতিতে তারা আক্রমণ
করতে পারেন, তা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের সমস্যায় ফেলে দেবে। এই গতিতেও সৃজনশীল ফুটবল
খেলার ক্ষমতা রাখে ফ্রান্স।
জমাট রক্ষণ- ফ্রান্সের দুই সেন্টার
ব্যাক উইলিয়াম স্যালিবা ও ডায়োট উপামেকানোকে বিশ্বের অন্যতম দুই সেরা ডিফেন্ডার ধরা
হয়। দু’জনেই ফর্মে রয়েছেন। গোলে মাইক মাইগনানও ফর্মে। ফলে এই রক্ষণ ভেঙে যে কোনো দলের
পক্ষে গোল করা কঠিন।
দুর্বলতা: তারকা নির্ভরতা বেশি
দলে বিকল্প থাকলেও ফ্রান্সের এই দল মূলত তারকাদের উপরেই বেশি নির্ভর করে। এমবাপ্পে,
দেম্বেলেদের দিন খারাপ গেলে সমস্যায় পড়তে পারে তারা। সেট পিসে সমস্যা-রক্ষণ জমাট থাকলেও
সেট পিসে সমস্যায় পড়ে ফ্রান্স। এ বারের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে তা দেখা গিয়েছে।
কর্নার বা ফ্রি কিক থেকে গোল খেয়েছে তারা। ফ্রান্সের এই দুর্বলতা প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে
পারে।
সম্ভাবনা: নতুনদের তারকা হওয়ার
মঞ্চ- ওয়ারেন জাইরে এমেরি, ডেজিরে ডুয়ের মতো ফুটবলার ক্লাব ফুটবলে নজর কেড়েছেন। এ বার
তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, কান্তেদের ভিড়ের মধ্যে তারকা হয়ে ওঠার সুযোগ
থাকবে তাদের। সহজ গ্রুপ- অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছে ফ্রান্স। বাকি তিন দল সেনেগাল,
ইরাক ও নরওয়ে। ফলে এই গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়া অনেকটাই সহজ।
শঙ্কা: ২০২৪ সালের ইউরো কাপ ও
২০২৫ সালের নেশন্স লীগের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। এ বার বিশ্বকাপেও
নক আউটে দু’দল মুখোমুখি হতে পারে। স্পেনের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড চাপে রাখবে
ফ্রান্সকে। প্রত্যাশার চাপ- যে দল যত ভালো, সেই দলের উপর প্রত্যাশার চাপ তত বেশি। গত
দু’বারের মধ্যে এক বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এক বার হয়েছে রানার্স। ফলে এবারও তাদের
দিকে সবার নজর থাকবে। এই চাপ দলকে সমস্যায় ফেলতে পারে। শারীরিক ধকল- ফ্রান্সের বেশির
ভাগ ফুটবলার ঘরোয়া ফুটবলে বড় দলে খেলেন। সারা বছর খেলতে হয় তাদের। ফলে ধকল থাকে। সেই
ধকল সামলে বিশ্বকাপে খেলতে হবে তাদের। শারীরিক ধকল এমবাপ্পেদের সমস্যায় ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন