রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনা এবার চরম রূপ নিয়েছে। নতুন পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন, কার্যালয়ে তালা ঝোলানো এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোটা হাসপাতাল জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে
এই প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত
শত অসহায় সাধারণ রোগী। গত সাত দিন
ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা এক প্রকার ভেঙে
পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি ও আর্তনাদ চরমে
পৌঁছেছে।
আওয়ামী
লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে পরিচালকের কক্ষে তালা
ঘটনার
সূত্রপাত সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
থেকে ডা. মামুনুর রশিদকে
হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে
নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে। গতকাল
সকালে তিনি নিজ কার্যালয়ে
কাজে যোগদান করতে গেলে হাসপাতালের
ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, সকাল ১০টা ৪০
মিনিটের দিকে কলেজের অধ্যক্ষ,
ভাইস-প্রিন্সিপাল, মেডিকেল কলেজ শাখার ছাত্রদল
ও ড্যাব নেতৃবৃন্দসহ জাতীয়তাবাদী সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচালকের রুমে ঢুকে অবস্থান
নেন। তারা নতুন পরিচালককে
'আওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগের
দাবি জানান। একপর্যায়ে তোপের মুখে পরিচালক কক্ষ
থেকে বেরিয়ে গেলে আন্দোলনকারীরা তার
কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা ফোর্স
মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের
বক্তব্য ও পুলিশের তৎপরতা
সার্বিক
পরিস্থিতি নিয়ে ড্যাব সভাপতি
বলেন, "যাকে পরিচালক নিয়োগ
দেওয়া হয়েছে, তিনি স্বাচিপের সমর্থক।
এ জন্যই হাসপাতালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।" পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তিনি
বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে
শেরেবাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর
(অপারেশন) মাসুদ রানা জানান, "গত
এক সপ্তাহ ধরে পরিচালক নিয়ে
উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও গতকাল পরিচালক
কাজে যোগদান করতে গেলে প্রতিপক্ষের
ছাত্র ও ডাক্তারদের মধ্যে
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নতুন
পরিচালক তার রুম থেকে
বেরিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ তালা
লাগিয়ে দেয়। পুলিশের উচ্চ
পর্যায়ের নির্দেশে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"
ভাঙা
চিকিৎসা ব্যবস্থা, আতঙ্কে রোগীরা
সরেজমিনে দেখা
যায়, চেয়ার দখলের
এই লড়াইয়ে সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে
বহির্বিভাগ, সবখানেই এখন বিরাজ করছে
এক অজানা আতঙ্ক। অনেকেই ভেতরে ঢুকতে সাহস পাচ্ছেন না।
সেবা
না পেয়ে অনেক রোগীকে
স্ট্রেচারে বা হাসপাতালের মেঝেতে
শুয়ে কাতরাতে দেখা গেছে। চিকিৎসকদের
এই কোন্দল দ্রুত নিরসন না হলে অসহায়
মানুষের ভোগান্তি আরও দীর্ঘ হবে
বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনা এবার চরম রূপ নিয়েছে। নতুন পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন, কার্যালয়ে তালা ঝোলানো এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোটা হাসপাতাল জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে
এই প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত
শত অসহায় সাধারণ রোগী। গত সাত দিন
ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা এক প্রকার ভেঙে
পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি ও আর্তনাদ চরমে
পৌঁছেছে।
আওয়ামী
লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে পরিচালকের কক্ষে তালা
ঘটনার
সূত্রপাত সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
থেকে ডা. মামুনুর রশিদকে
হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে
নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে। গতকাল
সকালে তিনি নিজ কার্যালয়ে
কাজে যোগদান করতে গেলে হাসপাতালের
ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, সকাল ১০টা ৪০
মিনিটের দিকে কলেজের অধ্যক্ষ,
ভাইস-প্রিন্সিপাল, মেডিকেল কলেজ শাখার ছাত্রদল
ও ড্যাব নেতৃবৃন্দসহ জাতীয়তাবাদী সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচালকের রুমে ঢুকে অবস্থান
নেন। তারা নতুন পরিচালককে
'আওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগের
দাবি জানান। একপর্যায়ে তোপের মুখে পরিচালক কক্ষ
থেকে বেরিয়ে গেলে আন্দোলনকারীরা তার
কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা ফোর্স
মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের
বক্তব্য ও পুলিশের তৎপরতা
সার্বিক
পরিস্থিতি নিয়ে ড্যাব সভাপতি
বলেন, "যাকে পরিচালক নিয়োগ
দেওয়া হয়েছে, তিনি স্বাচিপের সমর্থক।
এ জন্যই হাসপাতালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।" পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তিনি
বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে
শেরেবাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর
(অপারেশন) মাসুদ রানা জানান, "গত
এক সপ্তাহ ধরে পরিচালক নিয়ে
উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও গতকাল পরিচালক
কাজে যোগদান করতে গেলে প্রতিপক্ষের
ছাত্র ও ডাক্তারদের মধ্যে
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নতুন
পরিচালক তার রুম থেকে
বেরিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ তালা
লাগিয়ে দেয়। পুলিশের উচ্চ
পর্যায়ের নির্দেশে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"
ভাঙা
চিকিৎসা ব্যবস্থা, আতঙ্কে রোগীরা
সরেজমিনে দেখা
যায়, চেয়ার দখলের
এই লড়াইয়ে সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে
বহির্বিভাগ, সবখানেই এখন বিরাজ করছে
এক অজানা আতঙ্ক। অনেকেই ভেতরে ঢুকতে সাহস পাচ্ছেন না।
সেবা
না পেয়ে অনেক রোগীকে
স্ট্রেচারে বা হাসপাতালের মেঝেতে
শুয়ে কাতরাতে দেখা গেছে। চিকিৎসকদের
এই কোন্দল দ্রুত নিরসন না হলে অসহায়
মানুষের ভোগান্তি আরও দীর্ঘ হবে
বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন