সংবাদ

হামে দেশে শিশুমৃত্যু ৬০০ ছাড়াল, আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও ​


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

হামে দেশে শিশুমৃত্যু ৬০০ ছাড়াল, আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও  ​

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগের চিত্র পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবারের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

​এক নজরে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান:

​নতুন মৃত্যু: ৭ জন (উপসর্গসহ)

​নতুন উপসর্গযুক্ত রোগী: ১,২১০ জন

​ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হাম শনাক্ত: ৫৫ জন

​নতুন হাসপাতালে ভর্তি: ১,০৫২ জন

​১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্র:

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই মাসে সারা দেশে মোট ৭৪,৫৭২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, এর আগে ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫,৯৩৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এরপর নিয়মিত টিকাদানের ফলে সংক্রমণ অনেক কমে আসে। এমনকি গত বছর (২০২৫ সালে) সারা দেশে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু এবারের মতো এত ব্যাপক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির বাংলাদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি।

​হামকে সাধারণত শিশুদের রোগ মনে করা হলেও, এবারের চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন রূপ। রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের বয়স ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট রোগীর ১৫.৬ শতাংশেরই বয়স ১৫ বছরের বেশি। অর্থাৎ, প্রতি ৬ জন রোগীর মধ্যে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

​ডিএনসিসি হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬,৯৩৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে মারা গেছে ৪১ জন। বর্তমানে সেখানে ৪২ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

​ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আসিফ হায়দার জানান, পরিবারের আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমে বড়দের শরীরে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। শিশুদের যথাযথ আইসোলেশনে না রাখলে পরিবারের অন্যরা দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হামের কারণে নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

​যাঁরা শৈশবে হামের টিকা নেননি বা পূর্ণ ডোজ শেষ করেননি। ​যাঁরা আগে কখনো হামে আক্রান্ত হননি। ​ক্যানসার (কেমোথেরাপির রোগী), কিডনি ডায়ালিসিস, যক্ষ্মা রোগী কিংবা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড নেওয়ার কারণে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) দুর্বল।

​জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন জানান, শিশুরা হামের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকলেও, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্করাও এবার সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। সংক্রমণ রুখতে আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখা এবং টিকাদানের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


হামে দেশে শিশুমৃত্যু ৬০০ ছাড়াল, আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও ​

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগের চিত্র পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবারের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

​এক নজরে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান:

​নতুন মৃত্যু: ৭ জন (উপসর্গসহ)

​নতুন উপসর্গযুক্ত রোগী: ১,২১০ জন

​ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হাম শনাক্ত: ৫৫ জন

​নতুন হাসপাতালে ভর্তি: ১,০৫২ জন

​১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্র:

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই মাসে সারা দেশে মোট ৭৪,৫৭২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, এর আগে ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫,৯৩৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এরপর নিয়মিত টিকাদানের ফলে সংক্রমণ অনেক কমে আসে। এমনকি গত বছর (২০২৫ সালে) সারা দেশে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু এবারের মতো এত ব্যাপক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির বাংলাদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি।

​হামকে সাধারণত শিশুদের রোগ মনে করা হলেও, এবারের চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন রূপ। রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের বয়স ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট রোগীর ১৫.৬ শতাংশেরই বয়স ১৫ বছরের বেশি। অর্থাৎ, প্রতি ৬ জন রোগীর মধ্যে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

​ডিএনসিসি হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬,৯৩৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে মারা গেছে ৪১ জন। বর্তমানে সেখানে ৪২ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

​ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আসিফ হায়দার জানান, পরিবারের আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমে বড়দের শরীরে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। শিশুদের যথাযথ আইসোলেশনে না রাখলে পরিবারের অন্যরা দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হামের কারণে নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

​যাঁরা শৈশবে হামের টিকা নেননি বা পূর্ণ ডোজ শেষ করেননি। ​যাঁরা আগে কখনো হামে আক্রান্ত হননি। ​ক্যানসার (কেমোথেরাপির রোগী), কিডনি ডায়ালিসিস, যক্ষ্মা রোগী কিংবা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড নেওয়ার কারণে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) দুর্বল।

​জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন জানান, শিশুরা হামের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকলেও, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্করাও এবার সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। সংক্রমণ রুখতে আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখা এবং টিকাদানের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত