দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও বন্দিজীবন শেষে অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।
মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, বিকেলে জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১০টায় তিনি কারামুক্ত হন। মুক্তির পর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়।
১০ মে, ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ১৭ মে, আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে, আপিল বিভাগ সেখানেও জামিন বহাল রাখার আদেশ দেয়।
আইনজীবী জানান, আপিল বিভাগের আদেশ নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর জামিন কার্যকরের আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমোদনের পর ঈদুল আজহার ছুটির কারণে নথিপত্র কারাগারে পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও, বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
কারামুক্তির পর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন তার আইনজীবী। অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, "সব মামলায় জামিন কার্যকর হওয়ায় তিনি আজ মুক্তি পেয়েছেন। তিনি তাঁর আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে আবারও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।"
২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন।
৮ মে, ২০২৫, রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক তার বাড়ির সামনে জড়ো হন। ৯ মে, ২০২৫, প্রায় ৬ ঘণ্টার নাটকীয়তা শেষে ভোররাতে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ৩টি হত্যা ও ২টি হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিরুদ্ধে তার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং সাবেক পৌর চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও বন্দিজীবন শেষে অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।
মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, বিকেলে জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১০টায় তিনি কারামুক্ত হন। মুক্তির পর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়।
১০ মে, ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ১৭ মে, আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে, আপিল বিভাগ সেখানেও জামিন বহাল রাখার আদেশ দেয়।
আইনজীবী জানান, আপিল বিভাগের আদেশ নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর জামিন কার্যকরের আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমোদনের পর ঈদুল আজহার ছুটির কারণে নথিপত্র কারাগারে পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও, বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
কারামুক্তির পর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন তার আইনজীবী। অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, "সব মামলায় জামিন কার্যকর হওয়ায় তিনি আজ মুক্তি পেয়েছেন। তিনি তাঁর আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে আবারও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।"
২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন।
৮ মে, ২০২৫, রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক তার বাড়ির সামনে জড়ো হন। ৯ মে, ২০২৫, প্রায় ৬ ঘণ্টার নাটকীয়তা শেষে ভোররাতে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ৩টি হত্যা ও ২টি হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিরুদ্ধে তার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং সাবেক পৌর চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

আপনার মতামত লিখুন