সংবাদ

আগের দামেই বিদ্যুৎ পেতে পারেন লাইফলাইন গ্রাহকরা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

আগের দামেই বিদ্যুৎ পেতে পারেন লাইফলাইন গ্রাহকরা
প্রতীকী ছবি।

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিশেষ করে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত নতুন মূল্যহার সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে বিভাগটি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি শেষে বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মূল্যহারের প্রতিফলন নতুন ট্যারিফে ঘটেনি।

গত বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা এই শ্রেণির আওতাভুক্ত। এতে প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সমিতিগুলোতেই রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

নতুন দামে শুধু বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যই নয়, গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করতে হয়। ফলে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একজন লাইফলাইন গ্রাহকের মাসিক বিল গড়ে প্রায় ৩৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের চাপ বাড়াবে এবং তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে পিডিবির গত ৩ মে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করতে বিইআরসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, প্রান্তিক গ্রাহকদের স্বার্থ ও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দ্রুত লাইফলাইন ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেবে। এতে নিম্ন আয়ের কোটি কোটি গ্রাহক কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


আগের দামেই বিদ্যুৎ পেতে পারেন লাইফলাইন গ্রাহকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিশেষ করে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত নতুন মূল্যহার সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে বিভাগটি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি শেষে বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মূল্যহারের প্রতিফলন নতুন ট্যারিফে ঘটেনি।

গত বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা এই শ্রেণির আওতাভুক্ত। এতে প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সমিতিগুলোতেই রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

নতুন দামে শুধু বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যই নয়, গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করতে হয়। ফলে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একজন লাইফলাইন গ্রাহকের মাসিক বিল গড়ে প্রায় ৩৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের চাপ বাড়াবে এবং তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে পিডিবির গত ৩ মে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করতে বিইআরসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, প্রান্তিক গ্রাহকদের স্বার্থ ও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দ্রুত লাইফলাইন ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেবে। এতে নিম্ন আয়ের কোটি কোটি গ্রাহক কিছুটা স্বস্তি পাবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত