বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার মাত্র একদিনের মাথায় নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রথম দুই ধাপে গ্রাহকদের জন্য পূর্বের দাম বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ এনার্জি
রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, গত
৩ জুন বিইআরসি বিদ্যুতের নতুন দর ঘোষণা করে, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
নতুন দরে লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে
৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে
বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের একদিন পরই আজ সকালে
বিপিডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে দাম পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেয়।
এ বিষয়ে বিইআরসি
চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, লাইফলাইন এবং প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের
ক্ষেত্রে আগের দাম বহাল রাখার আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু এতে সাধারণ গ্রাহকরা উপকৃত হবেন,
তাই এর জন্য নতুন করে কোনো গণশুনানির প্রয়োজন হবে না। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে
আলোচনা করে দ্রুত বিষয়টি রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
২০২৫ সালের
জুনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ। যার সিংহভাগই
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন গ্রামীণ অঞ্চলের দরিদ্র পরিবার। সাধারণত একটি ছোট
বাতি ও একটি ফ্যান সীমিত সময় ব্যবহারের ভিত্তিতে সমাজের হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ
লাইফলাইন গ্রাহক হিসেবে গণ্য হন। তবে বাস্তবে পরিবারের সদস্য বেশি হলে কিংবা গরমের
সময় দীর্ঘক্ষণ ফ্যান চালাতে হলে সহজেই এই সীমা অতিক্রম করে তারা অন্য স্তরে চলে যান
এবং বাড়তি খরচের মুখে পড়েন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর বড় স্বস্তি মিলবে।
বিশ্লেষকদের
মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বারবার সামনে আসে।
নতুন এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুরোনো দাম বহাল রাখলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর বছরে প্রায়
৭৮১ কোটি টাকা আয় কমতে পারে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষার
বিষয়টি বিবেচনা করলে সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার মাত্র একদিনের মাথায় নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রথম দুই ধাপে গ্রাহকদের জন্য পূর্বের দাম বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ এনার্জি
রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, গত
৩ জুন বিইআরসি বিদ্যুতের নতুন দর ঘোষণা করে, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
নতুন দরে লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে
৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে
বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের একদিন পরই আজ সকালে
বিপিডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে দাম পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেয়।
এ বিষয়ে বিইআরসি
চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, লাইফলাইন এবং প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের
ক্ষেত্রে আগের দাম বহাল রাখার আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু এতে সাধারণ গ্রাহকরা উপকৃত হবেন,
তাই এর জন্য নতুন করে কোনো গণশুনানির প্রয়োজন হবে না। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে
আলোচনা করে দ্রুত বিষয়টি রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
২০২৫ সালের
জুনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ। যার সিংহভাগই
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন গ্রামীণ অঞ্চলের দরিদ্র পরিবার। সাধারণত একটি ছোট
বাতি ও একটি ফ্যান সীমিত সময় ব্যবহারের ভিত্তিতে সমাজের হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ
লাইফলাইন গ্রাহক হিসেবে গণ্য হন। তবে বাস্তবে পরিবারের সদস্য বেশি হলে কিংবা গরমের
সময় দীর্ঘক্ষণ ফ্যান চালাতে হলে সহজেই এই সীমা অতিক্রম করে তারা অন্য স্তরে চলে যান
এবং বাড়তি খরচের মুখে পড়েন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর বড় স্বস্তি মিলবে।
বিশ্লেষকদের
মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বারবার সামনে আসে।
নতুন এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুরোনো দাম বহাল রাখলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর বছরে প্রায়
৭৮১ কোটি টাকা আয় কমতে পারে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষার
বিষয়টি বিবেচনা করলে সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন