সংবাদ

জীবনযুদ্ধ ও নারীর প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’


বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

জীবনযুদ্ধ ও নারীর প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’

মঞ্চে স্বপ্নদৃশ্যের আলো আর পটভূমিতে ‘বেলা চাও’ গানের সুর। এমন আবহেই শুরু হয় নাট্যদল বটতলার প্রযোজনা ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’। একজন পোশাকশ্রমিক নারীর দিনের শুরুর কয়েকটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে নাটকটি। তবে এই ছোট পরিসরের মধ্যেই উঠে আসে শ্রমজীবী নারীদের জীবনসংগ্রাম, শ্রমশোষণ এবং পারিবারিক নিপীড়নের নির্মম বাস্তবতা।

নোবেলজয়ী নাট্যকার দারিও ফো এবং ফ্রাঙ্কা রামে-এর মূল রচনার বাংলা রূপান্তর এটি। নাটকটি কেবল একজন গার্মেন্টকর্মী নারীর গল্প নয়; বরং বাংলাদেশের শ্রমজীবী নারীদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীকী উপস্থাপন।

একক সংলাপনির্ভর নির্মাণ নাটকটির সবচেয়ে বড় শক্তি। পুরো মঞ্চজুড়ে একাই উপস্থিত থেকে নারী চরিত্রটি তুলে ধরে দুঃস্বপ্ন, কর্মস্থলে দেরি হওয়ার আতঙ্ক, সন্তানের দায়িত্ব, সংসারের চাপ এবং স্বামীর দায়িত্বহীনতার মতো নানা বাস্তবতা। সংলাপে যেমন রয়েছে হাস্যরস ও ব্যঙ্গ, তেমনি রয়েছে হতাশা ও প্রতিবাদের সুর।

আঞ্চলিক ভাষা ও কথ্য উচ্চারণের ব্যবহারে চরিত্রটি হয়ে উঠেছে বিশ্বাসযোগ্য। বিশেষ করে চাবি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দর্শকের সামনে তুলে ধরে চরিত্রটির মানসিক চাপ ও ভাঙনের প্রতীকী চিত্র।

নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক এর নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। নারী চরিত্রটি প্রশ্ন তোলে—সংসারের সব দায়িত্ব কেন নারীর ওপর বর্তায়, অথচ তার শ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি কোথায়? একইসঙ্গে নাটকে উঠে এসেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমশোষণ এবং বৈশ্বিক পুঁজিবাদের প্রভাব।

তবে দীর্ঘ সংলাপের কারণে কিছু অংশে পুনরাবৃত্তির অনুভূতি তৈরি হয়, যা নাটকের গতি কিছুটা মন্থর করেছে। তা সত্ত্বেও অভিনেত্রী কাজী রোকসানা রুমা-র শক্তিশালী অভিনয় নাটকটির আবেগ, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে দর্শকের কাছে গভীরভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

নাটকটি বাংলায় রূপান্তর করেছেন আবদুস সেলিম এবং নির্দেশনা দিয়েছেন ম. সাঈদ।

‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’ মূলত জীবনযুদ্ধ ও সংসারের চাপে আটকে পড়া এক নারীর গল্প। কিন্তু গভীরভাবে ভাবলে, এটি আমাদের সমাজের অসংখ্য নারীর প্রতিদিনের বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


জীবনযুদ্ধ ও নারীর প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

মঞ্চে স্বপ্নদৃশ্যের আলো আর পটভূমিতে ‘বেলা চাও’ গানের সুর। এমন আবহেই শুরু হয় নাট্যদল বটতলার প্রযোজনা ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’। একজন পোশাকশ্রমিক নারীর দিনের শুরুর কয়েকটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে নাটকটি। তবে এই ছোট পরিসরের মধ্যেই উঠে আসে শ্রমজীবী নারীদের জীবনসংগ্রাম, শ্রমশোষণ এবং পারিবারিক নিপীড়নের নির্মম বাস্তবতা।

নোবেলজয়ী নাট্যকার দারিও ফো এবং ফ্রাঙ্কা রামে-এর মূল রচনার বাংলা রূপান্তর এটি। নাটকটি কেবল একজন গার্মেন্টকর্মী নারীর গল্প নয়; বরং বাংলাদেশের শ্রমজীবী নারীদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীকী উপস্থাপন।

একক সংলাপনির্ভর নির্মাণ নাটকটির সবচেয়ে বড় শক্তি। পুরো মঞ্চজুড়ে একাই উপস্থিত থেকে নারী চরিত্রটি তুলে ধরে দুঃস্বপ্ন, কর্মস্থলে দেরি হওয়ার আতঙ্ক, সন্তানের দায়িত্ব, সংসারের চাপ এবং স্বামীর দায়িত্বহীনতার মতো নানা বাস্তবতা। সংলাপে যেমন রয়েছে হাস্যরস ও ব্যঙ্গ, তেমনি রয়েছে হতাশা ও প্রতিবাদের সুর।

আঞ্চলিক ভাষা ও কথ্য উচ্চারণের ব্যবহারে চরিত্রটি হয়ে উঠেছে বিশ্বাসযোগ্য। বিশেষ করে চাবি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দর্শকের সামনে তুলে ধরে চরিত্রটির মানসিক চাপ ও ভাঙনের প্রতীকী চিত্র।

নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক এর নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। নারী চরিত্রটি প্রশ্ন তোলে—সংসারের সব দায়িত্ব কেন নারীর ওপর বর্তায়, অথচ তার শ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি কোথায়? একইসঙ্গে নাটকে উঠে এসেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমশোষণ এবং বৈশ্বিক পুঁজিবাদের প্রভাব।

তবে দীর্ঘ সংলাপের কারণে কিছু অংশে পুনরাবৃত্তির অনুভূতি তৈরি হয়, যা নাটকের গতি কিছুটা মন্থর করেছে। তা সত্ত্বেও অভিনেত্রী কাজী রোকসানা রুমা-র শক্তিশালী অভিনয় নাটকটির আবেগ, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে দর্শকের কাছে গভীরভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

নাটকটি বাংলায় রূপান্তর করেছেন আবদুস সেলিম এবং নির্দেশনা দিয়েছেন ম. সাঈদ।

‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’ মূলত জীবনযুদ্ধ ও সংসারের চাপে আটকে পড়া এক নারীর গল্প। কিন্তু গভীরভাবে ভাবলে, এটি আমাদের সমাজের অসংখ্য নারীর প্রতিদিনের বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত