সংবাদ

শিবগঞ্জ-মোকামতলায় মাদকের বিস্তার, বিপথে তরুণরা


প্রতিনিধি, মোকামতলা (বগুড়া)
প্রতিনিধি, মোকামতলা (বগুড়া)
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

শিবগঞ্জ-মোকামতলায় মাদকের বিস্তার, বিপথে তরুণরা

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদকের কারবার ও আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বেশ কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের মাচইল, আটমূল ভাইয়ের পুকুর, গুজিয়া, কিচক, পীরব এলাকা এবং মোকামতলা উপজেলার লক্ষ্মীপুর, মাস্টারপাড়া, পাকুরতলা, রহবল ও দেউলীসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে মাদকের বিস্তার ঘটেছে।

মোকামতলা কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে মাদকসেবীদের উৎপাত খুব বেড়ে গেছে। অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি আমরা গ্রামবাসী সালিসের আয়োজন করি এবং ওই মাদকসেবীর বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি।’

বুড়িগঞ্জ এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিবগঞ্জের মাচইল গ্রাম এখন কার্যত মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেই এখানে মাদক কেনাবেচা চলে। আগে প্রশাসনের কিছুটা তৎপরতা থাকলেও বর্তমানে কারবারিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ওই গ্রামের এক কলেজছাত্রের দাবি, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু-একজন মাদকসেবীকে ধরলেও মূল কারবারিরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি শিবগঞ্জের পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেক স্কুলপড়ুয়া কিশোরও এতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।’

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক জিল্লুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু চুনোপুঁটি নয়, বড় কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান জোরদার করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


শিবগঞ্জ-মোকামতলায় মাদকের বিস্তার, বিপথে তরুণরা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদকের কারবার ও আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বেশ কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের মাচইল, আটমূল ভাইয়ের পুকুর, গুজিয়া, কিচক, পীরব এলাকা এবং মোকামতলা উপজেলার লক্ষ্মীপুর, মাস্টারপাড়া, পাকুরতলা, রহবল ও দেউলীসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে মাদকের বিস্তার ঘটেছে।

মোকামতলা কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে মাদকসেবীদের উৎপাত খুব বেড়ে গেছে। অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি আমরা গ্রামবাসী সালিসের আয়োজন করি এবং ওই মাদকসেবীর বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি।’

বুড়িগঞ্জ এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিবগঞ্জের মাচইল গ্রাম এখন কার্যত মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেই এখানে মাদক কেনাবেচা চলে। আগে প্রশাসনের কিছুটা তৎপরতা থাকলেও বর্তমানে কারবারিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ওই গ্রামের এক কলেজছাত্রের দাবি, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু-একজন মাদকসেবীকে ধরলেও মূল কারবারিরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি শিবগঞ্জের পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেক স্কুলপড়ুয়া কিশোরও এতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।’

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক জিল্লুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু চুনোপুঁটি নয়, বড় কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান জোরদার করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত