বেতন বৃদ্ধি ও সুরক্ষা আইনসহ ছয় দফা দাবিতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৭ জুন) সকাল আটটা থেকে তারা এই কর্মবিরতি পালন করছেন। দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকেরা।
মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাশাপাশি ট্রেইনি চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, চিকিৎসক সমাজের যৌক্তিক ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। চিকিৎসকবিরোধী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
ছয় দফা দাবি হলো—
১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন নীতিমালাসংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব বাতিল করা।
২. বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা।
৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করা এবং প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করা।
৪. স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে আবেদনের বয়সসীমা আগের মতো ৩৪ বছর করা।
৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডা. এ এস এম রশিদুল ইসলাম, ডা. সাদিয়া প্রত্যাশা, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. সি আর মাশিয়েল আলিফ প্রমুখ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে তারা জানান।
আপনার মতামত লিখুন