বয়স ৪০ হলেও সেটার ছাপ লুকা মদ্রিচের মাঠের পারফরম্যান্সে খুব একটা পড়ছে না। এই বয়সেও তাকে দলের মূল চালিকা শক্তি মনে করছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ। ফরোয়ার্ড আন্দ্রেই ক্রামারিচের মতে, দেশের ফুটবলের জন্য যা করেছেন মদ্রিচ, সেটা কখনো ভোলার নয়।
মূলত বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই
মদ্রিচকে স্তুতির জোয়ারে ভাসিয়েছেন তার কোচ ও সতীর্থরা। তাকে ঘিরেই যে উত্তর আমেরিকা
বিশ্বকাপে ইতিহাস রচনার স্বপ্ন বুনছে দলটির সবাই।
বিশ্ব মঞ্চে এনিয়ে সপ্তমবার খেলতে
যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। গত ছয় আসরে তিনবারই সেমি-ফাইনালে খেলেছে তারা। যার মধ্যে নিজেদের
অভিষেক আসর ১৯৯৮ সাল ও গত আসরে তৃতীয় হয়েছিল দলটি। আর ২০১৮ সালে খুব কাছে গিয়েও পায়নি
তারা শিরোপা জয়ের স্বাদ। ফাইনালে হেরে যায় ফ্রান্সের কাছে। চল্লিশ লাখেরও কম জনসংখ্যার
একটি দেশের জন্য এটা অসাধারণ সাফল্য। বিগত আসরগুলোর পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই এবারের
বিশ্বকাপের আগে ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে ক্রোয়েশিয়ার কোচের
দায়িত্বে আছেন দালিচ। তার কাছে ক্রোয়াটদের অল্প সময়ে এমন সাফল্যের রহস্য জানতে চাওয়া
হলে, তিনি বলেন মদ্রিচের নাম। ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক মদ্রিচ তার পঞ্চম বিশ্বকাপে খেলার
জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবারের আসরেও তাকে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে দেখছেন দালিচ।
‘মদ্রিচ এখনও এই দলের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, জাতীয় দলের চালিকা শক্তি, সেই ফুটবলার যে দলকে সচল রাখে। আমার
মনে হয় লুকা মদ্রিচ এই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা সে ইতোমধ্যে তার নিবেদন,
নিষ্ঠা, পারফরম্যান্স এবং আচরণের মাধ্যমে বহুবার প্রমাণ করেছে।’
‘সে খুবই পেশাদার, যে নিজের কাজটা
সর্বোচ্চটা দিয়ে করে। যদিও এখন তার বয়স ৪০ বছর, তবুও সে ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং এই
জাতীয় দলের প্রধান চালিকাশক্তি।’
ক্রামারিচের মতে, মদ্রিচের প্রভাব
কেবল ম্যাচের দিনগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি প্রতিনিয়ত অন্যদের জন্য মানদ-
নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। মদ্রিচকে ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের
একজন হিসেবে দেখেন তিনি।
‘আমার মনে হয় না, মদ্রিচকে বর্ণনা
করার জন্য তিনটি শব্দ যথেষ্ট, কারণ তিনি সত্যিই অনন্য, এক বিস্ময়, অসাধারণ একজন। কেউ
তাকে বর্ণনা করতে কোন তিনটি শব্দ ব্যবহার করে, আমার মনে হয় এটা দেখা বেশ মজার হবে।
কারণ তাকে নিয়ে তিন দিন কথা বলা যায়; একজন খেলোয়াড় এবং একজন মানুষ হিসেবে।’
‘আমার মনে হয়, আগামী ৫০০ বছরেও
তিনি ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে থাকবেন। আমাদের জন্য
তিনি যা করেছেন তা স্রেফ অবিশ্বাস্য। তবে এটা দিনের পর দিন ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা,
মনোভাব এবং অনুপ্রেরণারও প্রমাণ, বিশেষ করে এই বয়সে, যখন অধিকাংশ খেলোয়াড় অনেক আগেই
অবসর নিয়েছেন।’
আগামী ১৭ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ক্রোয়েশিয়ার। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ পানামা ও ঘানা।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
বয়স ৪০ হলেও সেটার ছাপ লুকা মদ্রিচের মাঠের পারফরম্যান্সে খুব একটা পড়ছে না। এই বয়সেও তাকে দলের মূল চালিকা শক্তি মনে করছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ। ফরোয়ার্ড আন্দ্রেই ক্রামারিচের মতে, দেশের ফুটবলের জন্য যা করেছেন মদ্রিচ, সেটা কখনো ভোলার নয়।
মূলত বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই
মদ্রিচকে স্তুতির জোয়ারে ভাসিয়েছেন তার কোচ ও সতীর্থরা। তাকে ঘিরেই যে উত্তর আমেরিকা
বিশ্বকাপে ইতিহাস রচনার স্বপ্ন বুনছে দলটির সবাই।
বিশ্ব মঞ্চে এনিয়ে সপ্তমবার খেলতে
যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। গত ছয় আসরে তিনবারই সেমি-ফাইনালে খেলেছে তারা। যার মধ্যে নিজেদের
অভিষেক আসর ১৯৯৮ সাল ও গত আসরে তৃতীয় হয়েছিল দলটি। আর ২০১৮ সালে খুব কাছে গিয়েও পায়নি
তারা শিরোপা জয়ের স্বাদ। ফাইনালে হেরে যায় ফ্রান্সের কাছে। চল্লিশ লাখেরও কম জনসংখ্যার
একটি দেশের জন্য এটা অসাধারণ সাফল্য। বিগত আসরগুলোর পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই এবারের
বিশ্বকাপের আগে ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে ক্রোয়েশিয়ার কোচের
দায়িত্বে আছেন দালিচ। তার কাছে ক্রোয়াটদের অল্প সময়ে এমন সাফল্যের রহস্য জানতে চাওয়া
হলে, তিনি বলেন মদ্রিচের নাম। ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক মদ্রিচ তার পঞ্চম বিশ্বকাপে খেলার
জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবারের আসরেও তাকে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে দেখছেন দালিচ।
‘মদ্রিচ এখনও এই দলের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, জাতীয় দলের চালিকা শক্তি, সেই ফুটবলার যে দলকে সচল রাখে। আমার
মনে হয় লুকা মদ্রিচ এই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা সে ইতোমধ্যে তার নিবেদন,
নিষ্ঠা, পারফরম্যান্স এবং আচরণের মাধ্যমে বহুবার প্রমাণ করেছে।’
‘সে খুবই পেশাদার, যে নিজের কাজটা
সর্বোচ্চটা দিয়ে করে। যদিও এখন তার বয়স ৪০ বছর, তবুও সে ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং এই
জাতীয় দলের প্রধান চালিকাশক্তি।’
ক্রামারিচের মতে, মদ্রিচের প্রভাব
কেবল ম্যাচের দিনগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি প্রতিনিয়ত অন্যদের জন্য মানদ-
নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। মদ্রিচকে ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের
একজন হিসেবে দেখেন তিনি।
‘আমার মনে হয় না, মদ্রিচকে বর্ণনা
করার জন্য তিনটি শব্দ যথেষ্ট, কারণ তিনি সত্যিই অনন্য, এক বিস্ময়, অসাধারণ একজন। কেউ
তাকে বর্ণনা করতে কোন তিনটি শব্দ ব্যবহার করে, আমার মনে হয় এটা দেখা বেশ মজার হবে।
কারণ তাকে নিয়ে তিন দিন কথা বলা যায়; একজন খেলোয়াড় এবং একজন মানুষ হিসেবে।’
‘আমার মনে হয়, আগামী ৫০০ বছরেও
তিনি ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে থাকবেন। আমাদের জন্য
তিনি যা করেছেন তা স্রেফ অবিশ্বাস্য। তবে এটা দিনের পর দিন ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা,
মনোভাব এবং অনুপ্রেরণারও প্রমাণ, বিশেষ করে এই বয়সে, যখন অধিকাংশ খেলোয়াড় অনেক আগেই
অবসর নিয়েছেন।’
আগামী ১৭ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ক্রোয়েশিয়ার। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ পানামা ও ঘানা।

আপনার মতামত লিখুন