ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্মরণকালের তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শহরের মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক পার হতে ঢাকামুখী যানবাহনের সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। তীব্র গরম, যানজট আর বাস ভাড়ার নৈরাজ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং শহরের ভেতরে যত্রতত্র দূরপাল্লার বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ড যানজটকে আরও প্রকট করেছে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র ফিরতি যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত সমানতালে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। মহাসড়কের অন্য অংশগুলো তুলনামূলক সচল থাকলেও গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের ভেতরে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। ফলে মুহূর্তেই যানজট উপজেলার দক্ষিণ পাশের বকচর থেকে উত্তর পাশের বোয়ালিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গত ঈদুল ফিতরের সময়ও ফ্লাইওভারের কাজ চলছিল, কিন্তু তখন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে যাতায়াত ছিল নির্বিঘ্ন। এবার পুলিশের সমন্বয়হীনতা ও মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গাফিলতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে থানা চৌমাথা মোড় ও গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট বাড়াচ্ছে।
যানজট নিরসনে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘মহাসড়ক সচল রাখতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল দিন-রাত কাজ করছে। এবার যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক বেশি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলে আগামী ঈদ থেকে এই সমস্যা আর থাকবে না।’
আপনার মতামত লিখুন