সংবাদ

বর্ষার শুরুতেই তিস্তার ভয়াল রূপ, বাড়ছে আতঙ্ক


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

বর্ষার শুরুতেই তিস্তার ভয়াল রূপ, বাড়ছে আতঙ্ক
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও জনপদ। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এবং বেলকা ইউনিয়নের বেলকা বাজার এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। এতে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই তিস্তার প্রবল স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উত্তর কালির খামার গ্রামের রহিমা বেগম ও খতিব উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। নদী ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি কেড়ে নিচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে সাময়িকভাবে বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।’

বেলকা বাজার এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, নদীভাঙন এখন তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আর অস্থায়ী ব্যবস্থা চান না; তাদের দাবি টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী বাঁধ। একই দাবি জানান বাংলা বাজার এলাকার মোর্শেদসহ অন্য ভুক্তভোগীরাও। তারা বলেন, নদীর তীব্র স্রোতের কাছে বালুর বস্তা টিকছে না। প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিত নদীশাসন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেজিং ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ না করলে সুন্দরগঞ্জের বিস্তীর্ণ জনপদ ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নদীপাড়ের মানুষের এখন একটাই আকুতি-তিস্তার এই ভয়াল গ্রাস থেকে সুন্দরগঞ্জের জনপদ, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


বর্ষার শুরুতেই তিস্তার ভয়াল রূপ, বাড়ছে আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এবং বেলকা ইউনিয়নের বেলকা বাজার এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। এতে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই তিস্তার প্রবল স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উত্তর কালির খামার গ্রামের রহিমা বেগম ও খতিব উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। নদী ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি কেড়ে নিচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে সাময়িকভাবে বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।’

বেলকা বাজার এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, নদীভাঙন এখন তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আর অস্থায়ী ব্যবস্থা চান না; তাদের দাবি টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী বাঁধ। একই দাবি জানান বাংলা বাজার এলাকার মোর্শেদসহ অন্য ভুক্তভোগীরাও। তারা বলেন, নদীর তীব্র স্রোতের কাছে বালুর বস্তা টিকছে না। প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিত নদীশাসন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেজিং ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ না করলে সুন্দরগঞ্জের বিস্তীর্ণ জনপদ ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নদীপাড়ের মানুষের এখন একটাই আকুতি-তিস্তার এই ভয়াল গ্রাস থেকে সুন্দরগঞ্জের জনপদ, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত