সংবাদ

কার্নিশে ঝোলা তরুণকে গুলি: এএসআই চঞ্চলের ফের সাফাই সাক্ষ্য


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

কার্নিশে ঝোলা তরুণকে গুলি: এএসআই চঞ্চলের ফের সাফাই সাক্ষ্য
ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুনরায় নিজের পক্ষে (সাফাই) সাক্ষ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার পুলিশের এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন ট্রাইব্যুনালে পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, "আমরা পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দিতে চাই। চঞ্চল ছাড়াও আরও সাক্ষী রয়েছেন, যাদের সাক্ষ্য নেওয়া প্রয়োজন।"

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দুপুরের পর চঞ্চলের জবানবন্দি গ্রহণের সময় নির্ধারণ করে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ফুটেজের ফরেনসিক পরীক্ষায় সত্যতা পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় তিনি রায়ের জন্য দিন ধার্য করার আবেদন জানান।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে  চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “কার্নিশে ঝুলে থাকা এক নিষ্পাপ মানুষকে অহেতুক গুলি করা হয়। সাব-ইন্সপেক্টর চঞ্চল চন্দ্র সরকার এই গুলির দায় স্বীকার করে একটি বক্তব্য দেন, যা কনটেন্ট ক্রিয়েটর পিনাকী ভট্টাচার্যের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আমরা সেই ফুটেজটি আদালতে দাখিল করি এবং ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, কথোপকথনটি এডিটেড বা এআই দিয়ে তৈরি নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মজার ব্যাপার হচ্ছে, চঞ্চল চন্দ্র সরকার আজকে নিজের পক্ষে নিজে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীতেও তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি এরকম একটি কথোপকথন করেছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে কেসটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরেকটি সাক্ষ্য হওয়ার পর এটিও রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে।”

এর আগে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথমবার সাক্ষ্য দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন চঞ্চল। গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়ার আবেদন করায় রায় পিছিয়ে যায়। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা পাঁচজন। গ্রেপ্তার চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়া বাকি চারজনই পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গত বছরের ৭ আগস্ট এই মামলায় ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। পুলিশ তার পিছু নিলে একপর্যায়ে তিনি ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে পড়েন। ওই ঝুলন্ত অবস্থাতেই এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হন আমির।

একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের দুজন। গুলিবিদ্ধ হয় মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। ঘটনার পর থেকে দেশি-বিদেশি উন্নতমানের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শিশু মুসা এখনও কথা বলতে পারছে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


কার্নিশে ঝোলা তরুণকে গুলি: এএসআই চঞ্চলের ফের সাফাই সাক্ষ্য

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুনরায় নিজের পক্ষে (সাফাই) সাক্ষ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার পুলিশের এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন ট্রাইব্যুনালে পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, "আমরা পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দিতে চাই। চঞ্চল ছাড়াও আরও সাক্ষী রয়েছেন, যাদের সাক্ষ্য নেওয়া প্রয়োজন।"

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দুপুরের পর চঞ্চলের জবানবন্দি গ্রহণের সময় নির্ধারণ করে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ফুটেজের ফরেনসিক পরীক্ষায় সত্যতা পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় তিনি রায়ের জন্য দিন ধার্য করার আবেদন জানান।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে  চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “কার্নিশে ঝুলে থাকা এক নিষ্পাপ মানুষকে অহেতুক গুলি করা হয়। সাব-ইন্সপেক্টর চঞ্চল চন্দ্র সরকার এই গুলির দায় স্বীকার করে একটি বক্তব্য দেন, যা কনটেন্ট ক্রিয়েটর পিনাকী ভট্টাচার্যের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আমরা সেই ফুটেজটি আদালতে দাখিল করি এবং ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, কথোপকথনটি এডিটেড বা এআই দিয়ে তৈরি নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মজার ব্যাপার হচ্ছে, চঞ্চল চন্দ্র সরকার আজকে নিজের পক্ষে নিজে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীতেও তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি এরকম একটি কথোপকথন করেছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে কেসটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরেকটি সাক্ষ্য হওয়ার পর এটিও রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে।”

এর আগে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথমবার সাক্ষ্য দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন চঞ্চল। গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়ার আবেদন করায় রায় পিছিয়ে যায়। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা পাঁচজন। গ্রেপ্তার চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়া বাকি চারজনই পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গত বছরের ৭ আগস্ট এই মামলায় ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। পুলিশ তার পিছু নিলে একপর্যায়ে তিনি ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে পড়েন। ওই ঝুলন্ত অবস্থাতেই এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হন আমির।

একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের দুজন। গুলিবিদ্ধ হয় মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। ঘটনার পর থেকে দেশি-বিদেশি উন্নতমানের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শিশু মুসা এখনও কথা বলতে পারছে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত